আজারবাইজানে বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা
আজারবাইজানের স্বায়ত্তশাসিত নাখচিভান অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ হামলাকে নতুন একটি দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। একটি ড্রোন নাখচিভান স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রের বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে আঘাত হানে। আরেকটি ড্রোন শাকারাবাদ গ্রামের একটি স্কুলের কাছাকাছি এলাকায় পড়ে। খবর আল জাজিরার।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ভূখণ্ড থেকে চালানো এই ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
হামলায় দুইজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং বিমানবন্দরে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে বলেও জানানো হয়।
ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ইরানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব চেয়েছে আজারবাইজান। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানিয়েছে দেশটি। এ ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূত মোজতবা দেমিরচিলুকে তলব করেছে আজারবাইজান সরকার।
নাখচিভান অঞ্চলটি ইরান ও তুরস্কের সীমান্তবর্তী একটি স্বায়ত্তশাসিত এলাকা। গত বছর আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এক শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে এই অঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত এই স্থলপথটি ‘ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’ (টিপিআইপিপি) নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে আজারবাইজানের মূল ভূখণ্ড থেকে নাখচিভান পর্যন্ত একটি করিডর তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই পরিকল্পিত পরিবহন করিডরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতা করে আসছে ইরান। তেহরানের আশঙ্কা, এই করিডর বাস্তবায়িত হলে আর্মেনিয়া ও ককেশাস অঞ্চলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সীমান্তের কাছাকাছি বিদেশি শক্তির উপস্থিতি বাড়তে পারে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক রেসুল সারদার বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আজারবাইজানকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতার ঘাঁটিতে পরিণত করা হয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ উত্তর সীমান্ত থেকে ইরানের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করছেন।
তার মতে, নাখচিভানে ড্রোন হামলার ঘটনা আজারবাইজান সরকারের প্রতি একটি শক্ত বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানি ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোহার আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করা একটি ড্রোন আল-জওফ অঞ্চলের কাছে ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময় ওমান অয়েল মার্কেটিং কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের একটি তেল সংরক্ষণ ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সিরিয়া ও ইরাক অতিক্রম করে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে আসার সময় পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ধ্বংস করে।
তবে তুরস্কের দিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করে দেশটি প্রয়োজনীয় সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় সামরিক অভিযান জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক