ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা কে এই মোজতবা খামেনি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই জনসমক্ষে খুব কম দেখা যাওয়ায় মোজতবা খামেনিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আলী খামেনির ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। তেহরানের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আলাভি স্কুলে তার মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়।
কৈশোরে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে ইরানি গণমাধ্যমে উল্লেখ রয়েছে।
১৯৯৯ সালে তিনি শিয়া ধর্মতত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র কুম শহরে গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা শুরু করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রায় ৩০ বছর বয়সে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দেন।
পর্দার আড়ালের প্রভাব
মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে খুব কমই বক্তব্য দিয়েছেন এবং কখনও সরকারি কোনো পদে দায়িত্ব পালন করেননি। তার খুব কম ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে।
তবে বহু বছর ধরেই ধারণা করা হয় যে তিনি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে পর্দার আড়ালে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতেন।
২০০০-এর দশকের শেষ দিকে প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় তাকে ইরানি নেতৃত্বের ভেতরে প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, তার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা সীমিত হওয়ায় তাকে কঠিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, আলী খামেনির উত্তরসূরি যেই হোক না কেন, তাকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক