শর্ত দিয়ে থালাপতি বিজয়ের প্রতি কংগ্রেসের সমর্থন
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় অভিষেকের পর তামিলনাড়ুতে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নবীন দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগামকে (টিভিকে) সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেস। তবে সেখানে একটি শর্ত রয়েছে। কংগ্রেস দাবি করেছে যে, এই জোটে কোনোভাবেই ‘সাম্প্রদায়িক শক্তিকে’ রাখা যাবে না। খবর এনডিটিভির।
তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি এবং কংগ্রেস লেজিসলেটিভ পার্টি সরকার গঠনের জন্য টিভিকে-কে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) তামিলনাড়ু ইনচার্জ গিরিশ চোডাঙ্কর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের সমর্থন এই শর্তে দেওয়া হবে যে, টিভিকে এই জোটে এমন কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রাখবে না যারা ভারতের সংবিধানে বিশ্বাস করে না।’
কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হলে থালাপতি বিজয়ের সমর্থনে আরও পাঁচজন বিধায়ক যুক্ত হবেন। বিজয়ের দলের ১০৭টি আসনের সঙ্গে এটি যুক্ত হলে টিভিকে-র মোট আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ১১২-তে। তবে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ১১৮-র গণ্ডি পার হতে তাঁর আরও ছয়জন বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন হবে।
মিত্রদলের সন্ধানে থালাপতি বিজয় অন্যান্য দল ভিসিকে, সিপিআই এবং সিপিএম-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। যদি তাঁরা তাঁকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে টিভিকে ১১৯ জন বিধায়কের সমর্থন পাবে, যা মোট আসনের অর্ধেকের চেয়ে একটি আসন বেশি।
জানা গেছে যে, টিভিকে-র কর্মকর্তারা চেন্নাইতে এআইডিএমকে প্রধান ইডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর বাসভবনেও তাঁর সাথে দেখা করেছেন। এই ঘটনাটি বিজেপির সঙ্গে জোটে থাকা দলটির ভেতরে একটি উল্লেখযোগ্য ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আজকের বিবৃতিতে কংগ্রেস জানিয়েছে যে, টিভিকে-র সঙ্গে তাদের এই জোট দুই দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অংশীদারত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এতে আরও বলা হয়েছে যে, এই জোট কেবল সরকার গঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার সংস্থা, লোকসভা এবং রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্যও কার্যকর থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘থালাপতি বিজয় এবং রাহুল গান্ধী যৌথভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল সরকারের পক্ষে তামিলনাড়ুর জনগণের এই ঐতিহাসিক রায়কে সম্মান জানাতে এবং মানুষের—বিশেষ করে তামিলনাড়ুর যুবসমাজের—স্বপ্ন ও প্রতিশ্রুতি পূরণের অঙ্গীকার করেছেন।’
এ মাসে অনুষ্ঠিত রাজ্য নির্বাচনে টিভিকে তামিলনাড়ু বিধানসভায় একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা ৬২ বছর পর দুই দ্রাবিড় জায়ান্ট ডিএমকে এবং এআইডিএমকে-র দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে রাজ্যের মোট ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টি জিতেছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার গণ্ডি থেকে মাত্র ১০টি আসন কম। ডিএমকে মাত্র ৫৯টি আসনে নেমে এসেছে, আর এআইডিএমকে ৪৭টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।
বিজয় দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন—ত্রিচি ইস্ট এবং পেরাম্বুর। তিনি দুটিতেই জয়ী হয়েছেন। সূত্র বলছে যে, তিনি সম্ভবত ত্রিচি ইস্ট আসনটি ছেড়ে দিয়ে পরবর্তীটি নিজের কাছে রাখবেন। সেটি হলে, শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক