অস্থির লেনদেন শেষে নিম্নমুখী যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার
ইরান যুদ্ধ ঘিরে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে। ফলে অস্থির লেনদেনের পর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেশিরভাগ সূচকেই নিম্নমুখী অবস্থায় শেষ হয়েছে।
দিন শেষে ডাও জোন্স সূচক ০.০৭ শতাংশ বা ৩৪.২৯ পয়েন্ট কমে ৪৭ হাজার ৭০৬.৫১ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.২১ শতাংশ বা ১৪.৫১ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৭৮১.৪৮ পয়েন্টে নেমে আসে। খবর আনাদোলুর।
তবে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক সামান্য বেড়ে ০.০১ শতাংশ বা ১.১৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২২ হাজার ৬৯৭.১০ পয়েন্টে শেষ হয়েছে।
বাজারের অস্থিরতার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের সূচক হিসেবে পরিচিত ভোলাটিলিটি ইনডেক্স (ভিক্স) ২.২৪ শতাংশ কমে ২৪.৯৩ পয়েন্টে নেমে আসে, যা বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
দিনের শুরুতে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলে বাজারে উদ্বেগ কমে যায় এবং তেলের দাম দ্রুত নেমে আসে।
পরবর্তীতে ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৮ শতাংশ কমে প্রায় ৮৯ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রায় ৭ শতাংশ কমে প্রায় ৮৭ ডলারে নেমে আসে। এর আগে উভয় সূচকই প্রায় ১১৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর সর্বোচ্চ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে গেছে। তবে পরে পোস্টটি ব্যাখ্যা ছাড়াই মুছে ফেলা হয়।
অন্যদিকে ইরান এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, যুদ্ধ চলাকালে কোনো মার্কিন জাহাজ ওই অঞ্চলের কাছেও যেতে সাহস করবে না।
এদিকে জি–৭ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা জানিয়েছেন, সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন হলে কৌশলগত তেল মজুত ছাড়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক তথ্যেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রি মাসিক ভিত্তিতে ১.৭ শতাংশ বেড়ে বার্ষিক হিসাবে ৪০ লাখ ৯ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে, যা বাজারের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক