হিজবুল্লাহর রকেট ও ইরানের ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েল
লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরানের ছোড়া রকেট ও ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলের আপার গ্যালিলি এলাকায় বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আপার গ্যালিলি অঞ্চলটি লেবানন সীমান্তের কাছে হওয়ায় সেখানে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার সম্ভাবনা বেশি। খবর আল জাজিরার।
এছাড়া ইসরায়েলের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমির একটি বেদুইন গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লোদ শহরে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।
বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি মধ্যাঞ্চলের শোহাম শহরে একটি ভবনে আগুন লাগার পর সেখান থেকে ৩০ জন বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে তেল আবিবের দক্ষিণে রিশন লেৎসিয়ন শহরে একটি স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি অবিস্ফোরিত ক্ষেপণাস্ত্র সড়কে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে হোলন ও ইয়েহুদ শহরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অনেক ক্ষয়ক্ষতির পেছনে রয়েছে ইরানের ছোড়া ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র। এসব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে বিস্তৃত এলাকায় ছোট ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেয়।
প্রতিটি সাব-মিউনিশনে প্রায় আড়াই কেজি বিস্ফোরক থাকে, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে বিস্তৃত এলাকায় আঘাত হানলে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ বিমান হামলা শুরু করে। ওই হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩০০ জন নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তুললেও তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক