মার্কিন কৌশল কেবল ইরানে ‘সর্বোচ্চ ধ্বংসের’ লক্ষ্যেই সীমাবদ্ধ?
ইরানের শিল্প নগরী ইসফাহানে সাম্প্রতিক ভয়াবহ মার্কিন হামলার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা। কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধ অধ্যয়ন বিভাগের ভিজিটিং লেকচারার সামির পুরি মনে করেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কোনো সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক পরিকল্পনা নেই; তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো ইরানের শিল্প ও সামরিক সক্ষমতাকে ‘সর্বোচ্চ ধ্বংস’ করা।
সামির পুরি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন :
১. ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ মার্কিন কৌশল
পুরির মতে, ইসফাহানের শিল্প এলাকায় মার্কিন আক্রমণ প্রমাণ করে, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য কেবল ইরানের অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘এই আক্রমণ আমাদের বলে যে, ইরানের শিল্প ও সামরিক সক্ষমতা সর্বাধিক ধ্বংস করা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আসলে কোনো কার্যকর যুদ্ধ-কৌশল নেই।’ অর্থাৎ, সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করার পর পরিস্থিতি কীভাবে শান্ত হবে বা রাজনৈতিক ফলাফল কী হবে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন অস্পষ্ট।
২. ইসরায়েলের প্রয়োজন বনাম যুক্তরাষ্ট্রের ঝুঁকি
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করা ইসরায়েলের জন্য একটি ‘কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা’ হতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামির পুরি বলেন, ‘ইরানের শিল্প সক্ষমতাকে আরও দুই-তিন সপ্তাহ আঘাত করার পরও যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে একটি ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে বেরিয়ে আসবে, তা কল্পনা করা কঠিন।’ কেবল বোমা মেরে বা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বিজয় অর্জন সম্ভব নয়।
৩. উপসাগরীয় নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালী সংকট
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিকভাবে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার প্রধান গ্যারান্টর বা আশ্বাসদাতা। কিন্তু এই যুদ্ধের ফলে সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন হুমকির মুখে। সামির পুরি বলেন, ‘উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ও বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।’ তিনি মনে করেন, একটি ‘গভীর তিক্ত’ ইরানি শাসনব্যবস্থা যদি এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থেকে কোনোমতে টিকে বের হতে পারে, তবে তারা আরও অটল ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে, যা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থি।
৪. রাজনৈতিক পরিণতির অভাব
সামরিক কৌশলের চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এর ‘রাজনৈতিক পরিণতি’ নিয়ে। ওয়াশিংটন কেবল বর্তমান সময়কে দেখছে, কিন্তু যুদ্ধের পরের ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। এই অদূরদর্শী কৌশলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক