লারিজানির হত্যাকাণ্ডে যে প্রতিক্রিয়া জানাল মার্কিন কর্মকর্তারা
ইরানের প্রভাবশালী নেতা আলি লারিজানি হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাম উল্লেখ না করে অস্পষ্টভাবে ইরানের ‘শীর্ষস্থানীয় একজন ব্যক্তি’ নিহতের কথা বললেও, হোয়াইট হাউস বা মন্ত্রিসভার অন্য কোনো জ্যেষ্ঠ সদস্য এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্প বর্তমানে লারিজানি হত্যাকাণ্ডের চেয়েও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাঁর ন্যাটো মিত্রদের ভূমিকার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, মিত্র দেশগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের সুরক্ষায় যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি ও তেহরানের অবস্থানের মধ্যে ব্যাপক বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাঁর সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায়, যদিও তিনি নিশ্চিত নন ঠিক কার সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। বিপরীতে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগের পরিকল্পনা তাঁদের নেই।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যখন কোনো কার্যকর আলোচনার প্রয়োজন হবে, তখন লারিজানির মতো প্রভাবশালী নেতার অনুপস্থিতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইসরায়েলি হামলায় একে একে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও মধ্যস্থতাকারীরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি কোনো শান্তি আলোচনা বা চুক্তির উদ্যোগ নিতে চায়, তবে কার সঙ্গে কথা বলবে—সেই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
লারিজানির মতো ‘ঐকমত্য সৃষ্টিকারী’ নেতার অভাব শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক