যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের ৫ শর্ত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনাকে ‘অত্যধিক’ ও ‘একপাক্ষিক’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। এর পরিবর্তে বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি দেশটির পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য পাঁচটি সুনির্দিষ্ট শর্ত ঘোষণা করেছে। খবর আলজাজিরার।
ইরানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এই শর্তগুলো হলো-
হামলা ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ : শত্রু পক্ষকে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) অবিলম্বে ইরানের ওপর সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন এবং টার্গেটেড কিলিং বা হত্যাকাণ্ড স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
পুনরায় যুদ্ধ না হওয়ার নিশ্চয়তা : ভবিষ্যতে ইরানের ওপর পুনরায় যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হবে না—এমন একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আন্তর্জাতিক মেকানিজম বা গ্যারান্টি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।
ক্ষতিপূরণ প্রদান : এই যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট ও নিশ্চয়তাসহ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ : কেবল ইরান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে এবং এই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত সব ‘প্রতিরোধ গোষ্ঠীর’ বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
হরমুজ প্রণালিতে সার্বভৌমত্ব : কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের সময়সীমা বা শর্ত নির্ধারণ করে দিতে পারে না। ইরান তখনই যুদ্ধ বন্ধ করবে যখন তাদের এই দাবিগুলো পূরণ হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার পরিকল্পনাটি বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এবং এটি আলোচনার পরিবর্তে উত্তেজনা বাড়ানোর একটি কৌশল মাত্র।
বর্তমানে পাকিস্তান ও ওমানের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক