লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দখলের হুমকি ইরানের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানে কোনো স্থল অভিযান শুরু করেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’-কে গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের মূল ভূখণ্ড বা দ্বীপপুঞ্জে মার্কিন অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে ‘বাব আল-মানদাব’ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। এই কৌশলগত প্রণালিটি জিবুতি এবং ইয়েমেনের মাঝখানে অবস্থিত। এখানে থাকা ইরানপন্থি হুথিরা এর আগেও জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
ওই সূত্রটি দাবি করেছে, এই প্রণালিতে একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ তৈরি করার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। সূত্রটি তাসনিম-কে আরও জানায়, ‘আমরা শত্রুপক্ষের প্রস্তুতি ও গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। শত্রু যদি ইরানের দ্বীপপুঞ্জ বা আমাদের ভূখণ্ডের কোথাও স্থল অভিযান চালাতে চায়, কিংবা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে নৌ-তৎপরতার মাধ্যমে ইরানের ক্ষতি করতে চায়, তবে আমরা তাদের জন্য বিস্ময়কর নতুন রণাঙ্গন (ফ্রন্ট) খুলে দেব। এতে তাদের পদক্ষেপ কোনো কাজে তো আসবেই না, বরং তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।’
এখন পর্যন্ত ইরান-সমর্থিত হুথিরা এই যুদ্ধ থেকে দূরে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রক্সি গোষ্ঠীটির এই নিস্পৃহতা আসলে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যাতে পরবর্তী কোনো ধাপে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের ওপর আরও বড় চাপ সৃষ্টি করা যায়।
গত মাসে ইরান ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এই পদক্ষেপ জ্বালানি বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। ‘কেপলার’-এর তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রায় ৪৩ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলো চরম ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে, যেমন অনেক দেশে চার দিনের কর্মসপ্তাহ ঘোষণা করা হয়েছে।
তেহরানের মেয়র ড. আলিরেজা জাকানি গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ আসলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা নিষেধাজ্ঞা। তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য দরাদরি করার চেয়ে আমরা হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে একটি নতুন নিষেধাজ্ঞার কাঠামো তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছি। মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আলোচনার টেবিলের প্রয়োজন নেই, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতোমধ্যেই ফলাফল এনে দিয়েছে।’
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জানিয়েছেন, যদি কোনো প্রতিবেশী দেশ (নাম উল্লেখ না করে) ‘শত্রুদের’ সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইরানের কোনো দ্বীপ দখলের চেষ্টা করে, তবে ইরান সেই প্রতিবেশী দেশে হামলা চালাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের সেইসব দেশে হামলা চালিয়েছে যেখানে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গতকাল বুধবার নিউইয়র্কে সতর্ক করে বলেছেন, ‘বিশ্ব এখন এই অঞ্চলে একটি ব্যাপকতর যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন সময় সংঘাতের সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার বদলে কূটনীতির সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার।’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক