ইউক্রেনের অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধের ব্যাপকতায় ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত অস্ত্র ও সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের মজুত কমে আসায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের’ এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পেন্টাগন বিশেষ করে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত জরুরি ‘ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। এই বিশাল সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও মিসাইলের ঘাটতি মেটাতেই মূলত ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দকৃত ন্যাটো তহবিলের অস্ত্রগুলো ডাইভার্ট করার এই প্রস্তাবনা উঠে এসেছে।
এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের ফলে কিয়েভের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা।
পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা বিভাগ এটি নিশ্চিত করতে চায় যেন মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্রদের জয়ী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম মজুত থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের তীব্রতা এতটাই বেশি যে মাত্র কয়েক দিনেই সেখানে যে পরিমাণ প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবহৃত হয়েছে, তা গত দুই বছরে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত মোট মিসাইলের চেয়েও বেশি হতে পারে। এই নজিরবিহীন চাহিদাই ওয়াশিংটনকে ইউক্রেনের পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যকে সামরিক অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করছে। সম্প্রতি কংগ্রেসের কাছে নিজেদের সামরিক মজুত পুনর্গঠনের জন্য অতিরিক্ত ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল দাবি করেছে পেন্টাগন। যা মূলত ইউক্রেন সহায়তার অংশ হওয়ার কথা ছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক