ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন : উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পঞ্চম সপ্তাহে রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের’ এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সীমিত স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। এই পরিকল্পনার মধ্যে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল ও হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। খবর আলজাজিরার।
এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন বা যুদ্ধের বদলে বিশেষায়িত কমান্ডো বাহিনী ও পদাতিক সৈন্যদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে এই ‘রেইড’ বা ঝটিকা অভিযান চালানো হতে পারে। অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটিগুলো খুঁজে বের করে ধ্বংস করা। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কমান্ডার ইন চিফকে সর্বোচ্চ সামরিক বিকল্প দেওয়া পেন্টাগনের নিয়মিত কাজের অংশ, তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে, ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ রণতরিতে করে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সৈন্য গত ২৭ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের আরও হাজার হাজার সৈন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই অভিযানগুলো সম্পন্ন করতে ‘কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহ’ সময় লাগতে পারে।
মার্কিন এই প্রস্তুতির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রোববার এক বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শত্রুরা একদিকে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে গোপনে স্থল অভিযানের নীল নকশা করছে। তারা জানে না যে আমাদের বীর সেনারা মার্কিন সৈন্যদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।
বাঘের গালিবাফ আরও জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যভেদে প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম ইরানি হুশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসা মাত্রই সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
পারস্য উপসাগরের এই উত্তেজনার আঁচ লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের সামরিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, যদি তাদের কোনো দ্বীপে আক্রমণ করা হয়, তবে তারা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সহায়তায় ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন ফ্রন্ট খুলে দেবে। এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পাকিস্তান বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে, যেখানে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অংশ নিচ্ছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক