ইরানি হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি ডিস্যালিনেশন প্লান্ট ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ১
ইরানের হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি লবণাক্ততা দূরীকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্লান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন ভারতীয় কর্মী নিহত হয়েছেন। কুয়েত কর্তৃপক্ষ আজ সোমবার (৩০ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কুয়েতের বিরুদ্ধে ইরানের আগ্রাসনের অংশ হিসেবে একটি বিদ্যুৎ ও পানি ডিস্যালিনেশন প্লান্টের সেবামূলক ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। এতে একজন ভারতীয় কর্মী নিহত হয়েছেন এবং ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
হামলার পরপরই কারিগরি ও জরুরি সেবা প্রদানকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং প্লান্টের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
এ ঘটনায় ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কুয়েতের মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হামলায় স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েত সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কুয়েত বারবার হামলার শিকার হচ্ছে। রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সামরিক ক্যাম্পে আঘাত হানে, যাতে ১০ জন সেনা সদস্য আহত হন।
গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরানের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং অন্তত ২১৬ জন শিশু রয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা আঞ্চলিক দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, যাতে হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
এদিকে, ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং দাম বেড়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলা ৬ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে। এর জবাবে ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের স্থাপনায় হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক