কে ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছেন?
ইরানজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের মধ্যেই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ‘নতুন শাসকগোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট’ তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছেন। ট্রাম্পের এই দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—আসলে কে এই অনুরোধটি করেছেন? কারণ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে এক ধরনের ধোঁয়াশা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। খবর বিবিসির।
গত ৮ মার্চ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি তার স্থলাভিষিক্ত হন বলে জানা যায়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি বেশ কিছু লিখিত বিবৃতি দিলেও এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। এমনকি খোদ ট্রাম্পও সংশয় প্রকাশ করেছেন, মোজতবা আসলে বেঁচে আছেন কি না।
ইরানে এখনো কোনো নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়োগের আনুষ্ঠানিক খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৪ সালে নির্বাচিত বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এখনো জনসমক্ষে রয়েছেন। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবারও (৩১ মার্চ) তিনি গণমাধ্যমের সামনে এসে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানের ‘প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা’ রয়েছে। ট্রাম্প যাকে ‘নতুন শাসকগোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করছেন, তিনি পেজেশকিয়ান কি না—তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
ট্রাম্পের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। তারা জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার কোনো আলোচনায় ইরান সরাসরি জড়িত নয়। তবে তেহরান স্বীকার করেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেবল কিছু অতি প্রয়োজনীয় বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে।
বিবৃতিতে ট্রাম্প সেই রহস্যময় ব্যক্তিকে তার পূর্বসূরিদের চেয়ে ‘অনেক কম উগ্রপন্থি এবং অনেক বেশি বুদ্ধিমান’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ মুক্ত ও নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো যুদ্ধবিরতি বিবেচনা করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক