১০ দফা পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার টেবিলে ইরান
দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। বিনিময়ে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দিতে রাজি হয়েছে তেহরান।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই ঐতিহাসিক সমঝোতার কথা ঘোষণা করেন। খবর আলজাজিরার।
একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের অনুরোধে তিনি হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তবে তিনি শর্ত দেন- ইরানকে অবিলম্বে ও নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।
এরপরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরানের সম্মতির কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহ ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে।
শাহবাজ শরিফ আরও জানান, আগামী ১০ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
এই আলোচনায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করতে যাচ্ছে ইরান।
দাবিগুলো হলো-
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ : ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থা চালু করা। যা ইরানকে একটি অনন্য অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানে নিয়ে যাবে।
প্রতিরোধ অক্ষের সুরক্ষা : তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার : মধ্যপ্রাচ্যের সকল ঘাঁটি ও মোতায়েন পয়েন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সকল কমব্যাট ফোর্স বা লড়াকু সৈন্য প্রত্যাহার করা।
ট্রানজিট প্রটোকল : হরমুজ প্রণালিতে এমন একটি নিরাপদ ট্রানজিট প্রটোকল প্রতিষ্ঠা করা, যা চুক্তি অনুযায়ী এই অঞ্চলে ইরানের আধিপত্য নিশ্চিত করবে।
ক্ষতিপূরণ প্রদান : যুদ্ধের ফলে ইরানের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ হিসাব অনুযায়ী সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার : ইরানের ওপর আরোপিত সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা এবং আইএইএর বোর্ড অব গভর্নর ও নিরাপত্তা পরিষদের সকল রেজোলিউশন বা প্রস্তাবনা বাতিল করা।
সম্পদ মুক্তি : বিদেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের সকল সম্পদ ও সম্পত্তি অবিলম্বে অবমুক্ত করা।
আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা : পরিশেষে, উপরের সকল বিষয়কে একটি বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা পরিষদ রেজুলেশনের মাধ্যমে অনুসমর্থন বা আইনি ভিত্তি প্রদান করা।
ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, এই ১০ দফা পরিকল্পনাটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের একক আধিপত্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক