যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো উপায় ছিল না ট্রাম্পের, মত বিশ্লেষকদের
দীর্ঘ বাগাড়ম্বর ও চরম উত্তেজনার পর ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে অনেকটা বাধ্যই হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে ট্রাম্পের সামনে এর চেয়ে ভালো আর কোনো বিকল্প ছিল না।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
ত্রিতা পারসি জানান, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে তা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকে ধ্বংস করে দিত। তিনি বলেন, ট্রাম্প বড় বড় হুমকির কথা বলছিলেন ঠিকই, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সবাই জানত যদি ইরানের জ্বালানি সম্পদ বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত করা হয়, তবে ইরান জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালাবে। এতে বিশ্বব্যাপী বর্তমানের চেয়েও ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি হতো।
বিশ্লেষকরা যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন-
মুখ রক্ষার কৌশল : বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প মঙ্গলবার সকালেই ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যাতে সন্ধ্যার দিকে হওয়া এই চুক্তিকে তার নিজের শর্তে করা একটি সফল চুক্তি হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা যায়।
আরও পড়ুন : ১০ দফা পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার টেবিলে ইরান
ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনার গুরুত্ব : ত্রিতা পারসি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের নিজস্ব বিবৃতিতেই স্পষ্ট হয়েছে, পরবর্তী আলোচনাগুলো ইরানের দেওয়া ‘১০ দফা পরিকল্পনার’ ওপর ভিত্তি করেই হবে। এই পরিকল্পনাটিকে যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ও যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি : তেলের দাম ইতোমধ্যে ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের জন্য নতুন কোনো সামরিক ঝুঁকি নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। পারস্য উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা এবং বিশ্ব তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখাই ছিল তার প্রধান অগ্রাধিকার।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই যুদ্ধবিরতি ট্রাম্পকে একটি সম্ভাব্য বিপর্যয়কর যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় ইরানের দাবিগুলো যুক্তরাষ্ট্র কতটা মেনে নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক