ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি, দাবি তেহরানের
বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় করতে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের একজন উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছেন, কাতার এবং অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হয়েছে। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই দাবি অস্বীকার করেছেন। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
উচ্চপদস্থ ওই ইরানি সূত্র যুক্তরাষ্ট্রের এই কথিত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে একে ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটনের ‘আন্তরিকতার লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো বার্তায় ইরানের অন্যতম দাবি ছিল এবং তেহরান সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন সম্মতি পেয়েছে।
বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রটি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার সঙ্গে যুক্ত, যা এই আলোচনার একটি মূল বিষয়।
তবে ওয়াশিংটন কত মূল্যের সম্পদ অবমুক্ত করতে রাজি হয়েছে সে সম্পর্কে ওই সূত্রটি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি। দ্বিতীয় এক ইরানি সূত্র জানিয়েছে, কাতারে থাকা ইরানের ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলারের জব্দ করা তহবিল ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
আট বছর আগে জব্দ করা হয় তহবিল
এই ছয় বিলিয়ন ডলার মূলত ২০১৮ সালে ফ্রিজ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে এই অর্থ অবমুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ইরানের মিত্র ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর জো বাইডেন প্রশাসন এই তহবিল পুনরায় স্থগিত করে।
সে সময় মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, অদূর ভবিষ্যতে ইরান এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না। তারা জোর দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন এই অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখার অধিকার রাখে।
এই অর্থ মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ইরানের তেল বিক্রির টাকা। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে গিয়েছিল।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দোহার মধ্যস্থতায় হওয়া বন্দি বিনিময় চুক্তির অধীনে এই অর্থ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। সেই চুক্তিতে ইরানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে এই তহবিল অবমুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচ ইরানিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা তখন জানিয়েছিলেন যে, এই অর্থ কেবল মানবিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নজরদারিতে অনুমোদিত বিক্রেতাদের মাধ্যমে ইরানকে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কৃষিপণ্য সরবরাহের বিপরীতে এই অর্থ ছাড় করার নিয়ম করা হয়েছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক