ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে যা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে ‘আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত’ হয়নি, তবে উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ওই মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়নি। একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার চেষ্টায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু ওই দীর্ঘ আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে সেই চুক্তির মেয়াদ আগামী সপ্তাহে শেষ হতে চলেছে।
দুজন মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস নিউজকে জানান, মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ও তেহরান স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আরও কাছাকাছি এসেছে। পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই কাজটি সম্পন্ন করতে একটি কাঠামোর তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অবশিষ্ট মতপার্থক্যগুলো কমিয়ে আনার চেষ্টায় বুধবার তেহরানে পৌঁছেছে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধি দল।
পাকিস্তানের একজন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, দেখা যাক আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারি কি না। আমরা আশাবাদী এবং সেই অনুযায়ী উভয় পক্ষকেই চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ ট্রাম্পের প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার ইরানের কর্মকর্তা ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং খসড়া বিনিময় করেছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা সব দেশের সঙ্গে ফোনে ও গোপনে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং তারা আরও কাছাকাছি আসছেন।’
আরেকজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তি করতে চায় এবং তাদের সরকারের একাংশ একটি চুক্তি করতে আগ্রহী। এখন আসল কাজ হলো দেশটির সরকারের বাকি অংশকেও এই চুক্তিতে রাজি করানো।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত আরেকটি সূত্র জানায়, যদি একটি চুক্তির কাঠামোতে পৌঁছানো সম্ভব হয়ে থাকে, তাহলে চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে হবে। বিষয়টি বেশ জটিল—দুদিনে তা করা সম্ভব নয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক