‘মার্কিন অবরোধ মোকাবিলায় অনেক বিকল্প আছে ইরানের’
ইরানের অর্থনীতির ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে দাবি করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফোয়াদ ইজাদি। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলারের বক্তব্যের পাল্টা জবাবে তিনি বলেছেন, ইরানকে পুরোপুরি শ্বাসরুদ্ধ করা ওয়াশিংটনের পক্ষে সম্ভব নয়। খবর আল জাজিরার।
স্টিফেন মিলার সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘অর্থনৈতিক জীবনকে নিংড়ে (শোষণ) নিচ্ছে’। এর জবাবে ফোয়াদ ইজাদি আল জাজিরাকে বলেন, মার্কিন প্রশাসন সম্ভবত ভুলে গেছে যে, ইরানের প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ স্থল সীমান্ত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইরানের উত্তর ও পূর্ব দিকে থাকা বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীরা আমাদের সাহায্য করছে। ফলে কেবল সমুদ্রপথ বন্ধ করে ইরানকে অচল করা যাবে না।’
নৌ অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘অবৈধ’ হিসেবে বর্ণনা করে এই অধ্যাপক বলেন, নির্দিষ্ট কোনো বৈদেশিক নীতি অর্জনের জন্য সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইতোমধ্যে বহু ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো দেশের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করাকে ‘আগ্রাসনমূলক কাজ’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর বর্তমানে চলমান মার্কিন নৌ অবরোধটি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সংঘাতের ভয়াবহতা ক্রমাগত বাড়ছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত দুই হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছেন ও আহত হয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ জন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক