১০ বিলিয়ন ডলারের মামলার নিষ্পত্তি চান ট্রাম্প, তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক
আইআরএসের বিরুদ্ধে করা ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলার সমঝোতা চাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দাখিল করা এক আবেদনে ট্রাম্পের আইনজীবীরা মামলাটি ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। আবেদনে বলা হয়, এতে বিচারিক প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা বাড়বে এবং দ্রুত সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে। খবর আল জাজিরার।
তবে সমালোচকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে। কারণ ট্রাম্প একইসঙ্গে মামলার বাদী এবং নির্বাহী শাখার প্রধান। তার অধীনেই বিচার বিভাগ কাজ করে। ফলে তিনি কার্যত নিজের প্রশাসনের সঙ্গেই সমঝোতা করছেন।
এই মামলার সূত্রপাত ২০১৭ সালে, যখনচার্লস “চাজ” লিটলজন নামের এক ঠিকাদার আইআরএসের নথি থেকে ট্রাম্পের কর-সংক্রান্ত তথ্য চুরি করেন। পরে সেই তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। ২০২০ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস একাধিক প্রতিবেদনে দেখায়, ট্রাম্প গত ১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছর কোনো আয়কর দেননি এবং অন্য বছরগুলোতে খুবই সামান্য কর পরিশোধ করেছেন।
এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় লিটলজনকে ২০২৪ সালে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দাবি করেন, এই ফাঁসের ফলে তার ও তার ব্যবসার বড় ধরনের আর্থিক ও সুনামগত ক্ষতি হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে প্রশ্ন রয়েছে। প্রচলিত আইনে ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হয় সরকারি কর্মচারীর অবৈধ তথ্য প্রকাশের ভিত্তিতে, গণমাধ্যমে প্রকাশের সংখ্যা ধরে নয়।
এছাড়া সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের আগে তিনি এই লঙ্ঘনের বিষয়টি জানতেন না। তবে সমালোচকরা বলছেন, ২০২০ সালেই তিনি সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।
আরও একটি বিতর্কিত দিক হলো, সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের অর্থ তিনি দান করবেন বলে জানালেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের এমোলুমেন্টস ক্লজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
সরকারি নজরদারি সংস্থা ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড আদালতে আবেদন জানিয়ে বলেছে, এই মামলায় প্রেসিডেন্ট কার্যত মামলার দুই পক্ষই নিয়ন্ত্রণ করছেন, যা বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্য হুমকি।
এদিকে, এই মামলার বাইরে আরও কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্প তার নিজের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, যার পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি ডলার বলে জানা গেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক