ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য আলোচনা : নিরাপত্তার চাদরে রাওয়ালপিন্ডি
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শহরটিতে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। খবর ডনের।
পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাওয়ালপিন্ডি পুলিশের ১০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা ও সদস্য বর্তমানে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। শহরের প্রতিটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে ৬০০টিরও বেশি বিশেষ পিকেট (পাহারাদার দল) নিবিড়ভাবে নজরদারি চালাচ্ছে। এছাড়া মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
বিদেশি প্রতিনিধিদলের আগমন উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরে ৪০০ জন এলিট কমান্ডো, ১০০ জন শার্প শ্যুটার, পাঞ্জাব হাইওয়ে পেট্রোলের ৪ হাজার সদস্য এবং ডলফিন ফোর্সের ২০০ জন সুসজ্জিত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিদেশি প্রতিনিধিদের আসা-যাওয়ার সময় বহুমুখী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ৪০০ এলিট কমান্ডোর মধ্যে ১০০ জন স্নাইপারও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
সূত্র জানিয়েছে, ১৮ এপ্রিল মধ্যরাত থেকেই নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মোতায়েন শুরু হয়েছে, কারণ বিদেশি প্রতিনিধিদলগুলো প্রথমে নূর খান বেস চাকলালায় অবতরণ করবেন এবং সেখান থেকে ইসলামাবাদে যাবেন। রোববার মধ্যরাত থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রথম শিফটে ৩ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য এবং দ্বিতীয় শিফটে আরও ৩ হাজার ৫০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
ভবনের ছাদে মোতায়েন স্নাইপাররা মাটিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের সাথে দৃষ্টি সংযোগ বজায় রাখবেন এবং ওয়্যারলেসের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগে থাকবেন। চৌহান চক থেকে কোরাল চক পর্যন্ত সকল সংযোগকারী সড়ক ও গলি বন্ধ রাখা হবে এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ পুরো এলাকায় তল্লাশি ও সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
শনিবার পুলিশ একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে সিটি পুলিশ অফিসার (সিপিও) সৈয়দ খালিদ মাহমুদ হামদানির নির্দেশে নিরাপত্তাকে 'হাই অ্যালার্ট' পর্যায়ে রাখা হয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র জানান, সিপিও-র সভাপতিত্বে পুলিশ লাইন্স সদর দপ্তরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে গ্যারিসন সিটিতে (সেনানিবাস শহর) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে এসএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন), চিফ ট্রাফিক অফিসার এবং অন্যান্য জেলার কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
কুইক রেসপন্স ইউনিটের দলগুলো বর্তমানে সতর্ক পাহারায় রয়েছে এবং পুরো শহর জুড়ে কড়া তল্লাশি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। শহরের প্রবেশ পথগুলোতে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে এবং তল্লাশি, সুইপিং ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানগুলো জোরদার করা হয়েছে।
সিপিও জানিয়েছেন, সেফ সিটি ক্যামেরা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চব্বিশ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতি নিরীক্ষা করছেন।
এদিকে, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং নাগরিকদের সুবিধার্থে বিকল্প পথের ব্যবস্থাসহ একটি বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অগ্রবর্তী নিরাপত্তা দল
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠেয় শান্তি আলোচনার নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ অগ্রবর্তী দলগুলো আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছাতে শুরু করতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, উভয় দেশের অগ্রবর্তী দলগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিভিআইপি) জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করবে।
এরই মধ্যে, রাজধানী ইসলামাবাদের পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের হোস্টেল, কর্মজীবী ব্যক্তিদের হোস্টেল, হোটেল, সরাইখানা এবং গেস্টহাউসগুলোর কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের স্থাপনা বন্ধ এবং ভবনগুলো তালাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আদেশ পালনে ব্যর্থ হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবাণী দেওয়া হয়েছে।
রেড জোনের কাছাকাছি অবস্থিত মাদ্রাসাগুলো বন্ধ এবং খালি করার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল ইসলামাবাদে একটি তাবলিগি ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদি শান্তি আলোচনা এ সপ্তাহের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হয়, তবে ইজতেমার আয়োজকদের তারিখ পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হতে পারে।
তাছাড়া, পুলিশ রেড জোনের মার্গাল্লা রোডের প্রবেশপথটি ছাড়া বাকি সব প্রবেশপথ সিল করে দিয়েছে। বর্তমানে এই পথটি শুধুমাত্র সরকারি যানবাহনের জন্য খোলা রাখা হয়েছে।
শান্তি আলোচনা চলাকালীন রাজধানীতে স্থানীয়ভাবে ছুটি ঘোষণারও সম্ভাবনা রয়েছে।
পাশাপাশি, রাজধানীর পুলিশ সড়ক বন্ধ করার জন্য কন্টেইনার সরবরাহকারী ভেন্ডরদের সাথেও যোগাযোগ করেছে। ভেন্ডরদের স্ট্যান্ডবাই থাকতে বলা হয়েছে এবং নির্দেশ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কন্টেইনার সরবরাহের প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা দায়িত্বের জন্য বর্তমানে রাজধানী পুলিশের প্রায় ৭ হাজার সদস্য, পাঞ্জাব পুলিশের ৪ হাজার সদস্য এবং ৯০০ জন ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি (এফসি) সদস্য প্রস্তুত রয়েছেন। সদস্য স্বল্পতা দেখা দিলে পাঞ্জাব পুলিশ, এফসি এবং রেঞ্জার্স থেকে আরও জনবল চাওয়া হবে।
এছাড়াও, ইসলামাবাদ আইজিপি অফিস নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবশ্যই পরিচয়পত্র সাথে রাখেন এবং সার্ভিস কার্ড দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক