বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছে। এরপর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধের ফলে মার্কিন ডলার ও জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে সোমবার (২০ এপ্রিল) স্বর্ণের দাম এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ২৩ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮০৪ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর জুন মাসে ডেলিভারির জন্য ইউএস গোল্ড ফিউচার ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮২৪ দশমিক ৬০ ডলারে নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় শান্তি চুক্তি নিয়ে শঙ্কার মধ্যে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সিটি ইনডেক্স ও ফরেক্স ডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও স্পষ্টতই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে আমাদের স্বর্ণের দাম সামান্য নিম্নমুখী হয়েছে। এর পাশাপাশি তেলের দামে আরেকটি বড় লাফের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, এতে মার্কিন ডলার ও বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি পেতে পারে।
পণ্যবাহী জাহাজটি আটক করার পর সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মূলত বন্ধ থাকায় তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।
স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি প্রতিষেধক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বব্যাপী সুদের হার বেশি থাকলে মূল্যবান এই ধাতুটির চাহিদা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ফলে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকতে পারে।
অন্যান্য ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সের দাম ৭৯ দশমিক ৬৮ ডলারে, প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ২ হাজার ৬৮ দশমিক ২৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪৪ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে আসে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক