স্বর্ণের দামে আবারও বড় পতন
মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবারও বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৭৭৭ দশমিক ৭৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। খবর রয়টার্সের।
মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর নতুন প্রধানের নিয়োগ সংক্রান্ত শুনানির অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের দাম কিছুটা বাড়ার ফলে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা এখন আগের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীরা উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কা করছেন। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণ বা রুপার মতো সম্পদ থেকে মুনাফা পাওয়ার হার কমে যায়, যা দাম কমাতে ভূমিকা রাখে।
ওএএনডিএ-র বিশ্লেষক জাইন ভাওদা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনার ফলাফলের ওপর স্বর্ণের পরবর্তী দাম নির্ভর করছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমলে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে। বর্তমানে প্রতি আউন্স সোনার দাম চার হাজার ৭৫০ থেকে চার হাজার ৮৫০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভারের দাম এক দশমিক চার শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮ দশমিক ৮১ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক সাত শতাংশ কমে দুই হাজার ৭৪ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক আট শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে, শান্তি আলোচনার ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ বাড়বে—এমন প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও কমতে শুরু করেছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনার সময় তেলের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল, যার ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দেয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক