হরমুজ প্রণালি থেকে আয় শুরু করেছে ইরান
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে টোল বা মাশুল আদায় শুরু করেছে ইরান। এ খাত থেকে প্রাপ্ত আয়ের প্রথম অংশ ইতোমধ্যে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের দ্বিতীয় ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এই পথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই সংঘাতের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ পারাপারের জন্য তাদেরকে টোল দিতে হবে।
এদিকে, আজ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি মালবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এর মধ্যে দুটি জাহাজ তারা জব্দ করে নিজেদের উপকূলে নিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘নূর নিউজ’ জানিয়েছে, প্রথম জাহাজ ‘এপামিনোন্ডাস’ ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সেটির ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এরপর ‘ইউফোরিয়া’ নামক দ্বিতীয় একটি জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটি থামানো হয়। এছাড়া ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ নামের তৃতীয় জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির নৌকমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী এমএসসি ফ্রান্সেসকা ও গ্রিসের মালিকানাধীন এপামিনোন্ডাস জাহাজ দুটি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া চলাচল করছিল। জব্দ করা জাহাজ দুটির নথিপত্র ও মালামাল পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়েছে।
গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জিওস গেরাপেট্রিটিস জানিয়েছেন, গ্রিক জাহাজ এপামিনোন্ডাসে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও সেটি ইরান জব্দ করেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারছেন না।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, আইআরজিসির গানবোটের হামলায় এপামিনোন্ডাস জাহাজের ব্রিজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, এমএসসি ফ্রান্সেসকা জাহাজটির হাল ও নাবিকদের থাকার জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
জব্দ করা জাহাজগুলো বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি এমএসসির একটি বড় বহরের অংশ ছিল বলে জানা গেছে। সংঘাত শুরুর আগে থেকেই এই বহরটি পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছিল। লাইনারলিটিকার তথ্য অনুযায়ী, বহরের বাকি চারটি জাহাজ নিজেদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে সফলভাবে প্রণালিটি পার হতে সক্ষম হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক