লেবাননে যুদ্ধের কারণে তীব্র ক্ষুধার মুখে ১২ লাখেরও বেশি মানুষ
জাতিসংঘের সহায়তাপুষ্ট একটি প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে লেবাননের ১২ লাখেরও বেশি মানুষ তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হতে পারে।
আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং লেবাননের কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ বিবৃতিতে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মানুষ সংকটজনক বা তার চেয়েও ভয়াবহ পর্যায়ের ‘খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার’ মুখে পড়তে পারেন। এই সংখ্যা বিশ্লেষণকৃত জনসংখ্যার প্রায় চারজনের মধ্যে একজন। ওই সংস্থাগুরো মূলত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)-এর বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করেছে। এটি জাতিসংঘ সমর্থিত সংস্থা যারা বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা ও অপুষ্টির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মার্চ মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের পরিস্থিতির তুলনায় এটি ‘মারাত্মক অবনতি’। সে সময় প্রায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ (জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ) তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার শিকার ছিলেন। প্রতিবেদনে এই অবনতির পেছনে মূলত সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং অর্থনৈতিক চাপকে দায়ী করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গত ১৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল এবং ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে সাময়িক বিরতি এনেছে। এই যুদ্ধে লেবাননে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে, যেখানে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের ফিরে না যেতে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও উভয় পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি টেকসই এবং সময়োপযোগী মানবিক সহায়তা ও জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় সহায়তা না দেওয়া হয়, তবে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও প্রকট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক