হেগসেথকে কংগ্রেস সদস্যের কটাক্ষ
ড্যাডির ওপর দায় চাপাচ্ছেন? ‘ড্যাডি’ ট্রাম্প খুশি হবেন না
ইরান যুদ্ধ, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের জেরার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ এপ্রিল) কংগ্রেসের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একের পর এক ধারালো প্রশ্নে বেশ কয়েকবার মেজাজ হারান হেগসেথ।
শুনানি চলাকালীন কংগ্রেস সদস্য ইউজিন ভিনম্যান সরাসরি আক্রমণাত্মক ভঙিতে হেগসেথকে প্রশ্ন করেন, “আপনি কি এখন আপনার ‘ড্যাডির’ (ট্রাম্প) ওপর যুদ্ধের দায় চাপাচ্ছেন? ড্যাডি হয়তো আপনার ওপর খুব একটা খুশি হবেন না।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত ট্রাম্পের প্রতি হেগসেথের অন্ধ আনুগত্যকে কটাক্ষ করেন।
জবাবে হেগসেথ দাবি করেন, প্রশাসনের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। ভিনম্যান আরও মনে করিয়ে দেন, মার্কিন জনগণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে দূরে থাকা ও দ্রব্যমূল্য কমানোর জন্য ভোট দিয়েছিল। কিন্তু তারা এর ঠিক উল্টোটা পেয়েছে।
শুনানির শুরুতেই সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে টেক্সট মেসেজ বা ফোনের মাধ্যমে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করার বিষয়টি নিয়ে জেরার মুখে পড়েন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। কংগ্রেসওম্যান ক্রিস্টিনা মারি হৌলাহান এটিকে ‘অপরিণত আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করে জানতে চান, কেন একজন দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাকে এভাবে বিদায় করা হলো। জবাবে হেগসেথ বলেন, জেনারেলরা ‘প্রেসিডেন্টের সন্তুষ্টির ওপর ভিত্তি করে’ দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনীর পুরোনো সংস্কৃতি পরিবর্তনের জন্য এই সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল।
ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য স্যালুদ কারবাহাল প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরাসরি ‘অযোগ্য’ বলে অভিহিত করে বলেন, মিস্টার হেগসেথ, গতবার আপনি যখন এখানে এসেছিলেন তখন আমি যা বলেছিলাম তাতেই আমি অনড় আছি। আপনি তখনও অযোগ্য ছিলেন, এখনও অযোগ্য। অযোগ্যতার ক্ষেত্রে আপনি এমন এক উপহার, যিনি ক্রমাগত নিজেকে বিলিয়ে যাচ্ছে।
শুনানিতে প্রথমবারের মতো ‘অপারেশন এপিক ফিউরির’ (ইরান যুদ্ধ) দাপ্তরিক ব্যয়ের হিসাব সামনে আসে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের একজন কর্মকর্তা স্বীকার করেন, এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে প্রায় ২৫ বিলিয়ন (২ হাজার ৫০০ কোটি) ডলার ব্যয় হয়েছে। কংগ্রেস সদস্য রো খান্না অভিযোগ করেন, এই যুদ্ধের ফলে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে বছরে গড়ে ৫ হাজার ডলার বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। হেগসেথ এই প্রশ্নগুলোকে ‘সস্তা কৌশল’ বলে উড়িয়ে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক বোমা ঠেকানোর মূল্যের কাছে এই খরচ কিছুই নয়। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করতে আর কত মাস লাগবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে হেগসেথ বলেন, শত্রুর সামনে তাদের কৌশল প্রকাশ করবেন না।
কংগ্রেস সদস্য মোল্টন ও ডেলুজিও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আগের দেওয়া ‘নো কোয়ার্টার, নো মার্সি’ (কোনো ক্ষমা বা দয়া নয়) বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা মনে করিয়ে দেন, আত্মসমর্পণকারী শত্রুকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী একটি যুদ্ধাপরাধ। হেগসেথ সরাসরি এই অভিযোগ খণ্ডন না করে বলেন, ‘প্রতিরক্ষা দপ্তর জেতার জন্য লড়াই করে।’ এছাড়া যুদ্ধে ছয় মার্কিন সেনার মৃত্যু ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের মুখে হেগসেথ দাবি করেন, সৈন্যরা সুরক্ষিত ছিল। ক্ষয়ক্ষতির তথ্যগুলো ‘মিথ্যা’।
শুনানি চলাকালীন হেগসেথ বারবার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধে কোনো জবাবদিহি ছাড়াই অর্থ ঢালা হয়েছে। এদিকে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি উত্তর না দেওয়ায় কংগ্রেসওম্যান তোকুদা মন্তব্য করেন, হেগসেথের আনুগত্য সংবিধানের প্রতি নয় বরং কেবল প্রেসিডেন্টের প্রতি।
শুনানির শেষ পর্যায়ে ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যাকার্স বলেন, যদি এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিই হেগসেথের কাছে ‘বিজয়’ মনে হয়, তবে তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। অনেক সদস্যই যুদ্ধের ব্যর্থতা ও অযোগ্যতার দায়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন। সূত্র : মেইডাসটাচ

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক