জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মিত্র দেশ জার্মানির সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আজ শনিবার (২ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন গত শুক্রবার এ সিদ্ধান্ত নেয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করার কয়েকদিন পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রেসিডেন্ট এসব অপ্রয়োজনীয় মন্তব্যের যথাযথ জবাব দিচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে একই তথ্য জানিয়েছে।
ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সমর্থন না দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, যেসব ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না, সেসব দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন।
এর আগে পলিটিকো জানিয়েছিল, ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরেও বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বিব্রতকর’ বলে মন্তব্য করেন এবং এটিকে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের মতো জটিল পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন।
মের্ৎস বলেন, এই সংঘাত আমাদের অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে এবং বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি অংশ নিতে অনীহা দেখিয়েছে। তবে শুরুতে তারা প্রকাশ্যে সমালোচনা না করলেও, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এখন সমালোচনা বাড়ছে।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে মের্ৎসকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি যেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে বেশি মনোযোগ দেন এবং ইরান ইস্যুতে ‘হস্তক্ষেপ’ না করেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক