মার্কিন মামলায় জরিমানা দিতে রাজি গৌতম আদানি
ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত একটি মার্কিন দেওয়ানি মামলায় অপরাধ স্বীকার না করেই কয়েক মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিয়ে মীমাংসা করতে রাজি হয়েছেন বলে শুক্রবার (১৫ মে) তার কোম্পানি জানিয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি আদালতের অভিযোগনামায় এই শিল্পপতি এবং তার একাধিক সহযোগীর বিরুদ্ধে বিশাল এক ঘুষ বাণিজ্যের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। লাভজনক সৌর শক্তি সরবরাহের চুক্তি পাওয়ার জন্য ভারতীয় কর্মকর্তাদের প্রায় ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঘুষ দেওয়ার একটি প্রকল্পে গৌতম আদানির জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জে আদানি গ্রিন এনার্জির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, গৌতম আদানি ও তার ভাইপো সাগর আদানি মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার ‘দেওয়ানি দণ্ড’ বা ‘সিভিল পেনাল্টি’ দিতে সম্মত হয়েছেন। তবে এতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেওয়ানি মামলার অভিযোগগুলো স্বীকার বা অস্বীকার না করেই এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।
‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন প্রসিকিউটররা আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করতে চলেছেন—এমন সংবাদের মধ্যেই এই জরিমানা প্রদানের খবরটি এল।
আদানির চিঠিতে বলা হয়েছে, মার্কিন আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য এখনো অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং এটি জোর দিয়ে জানানো হয়েছে যে, কোম্পানি এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ নয় এবং এর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ আরও জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের অধীনে আনা এই অভিযোগগুলো প্রত্যাহারের পদক্ষেপটি এমন সময় নেওয়া হয়েছে যখন গৌতম আদানি আইনজীবী রবার্ট জিওফ্রের নেতৃত্বে একটি নতুন আইনি দল নিয়োগ করেছেন। রবার্ট জিওফ্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীদের একজন।
কয়লা, বিমানবন্দর, সিমেন্ট ও মিডিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অধিকারী আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করপোরেট জালিয়াতির অভিযোগ এবং শেয়ার বাজারের ধসের কারণে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ মিত্র আদানি গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৬ বছর বয়সেই স্কুল ছেড়ে দেন। কাজের সন্ধানে তিনি ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ে আসেন এবং শহরের লাভজনক রত্ন ব্যবসায় যোগ দেন। তাঁর ভাইয়ের প্লাস্টিক ব্যবসায় কিছুদিন কাজ করার পর, ১৯৮৮ সালে তিনি রপ্তানি বাণিজ্যে যুক্ত হয়ে তাঁর নিজের নামের পারিবারিক এই বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী চালু করেন। সাত বছর পর গুজরাটে একটি বাণিজ্যিক শিপিং বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনার চুক্তির মাধ্যমে তিনি বড় ধরনের ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক