চীন সফরে বাণিজ্য চুক্তির দাবি ট্রাম্পের, ইরান-তাইওয়ান ইস্যুতে অগ্রগতি নেই
তিন দিনের চীন সফর শেষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফর শেষে তিনি একাধিক বড় বাণিজ্য চুক্তির দাবি করলেও তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি।
দ্বিতীয় মেয়াদে এটিই ছিল ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর। সফরে তাকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। শিশুদের শুভেচ্ছা, সামরিক গার্ড অব অনার, প্রাচীন রাজকীয় উদ্যান ও ১৫শ শতকের কনফুসীয় ‘টেম্পল অব হেভেন’ ঘুরে দেখানোর মধ্য দিয়ে সফরটি সম্পন্ন হয়। খবর আল জাজিরার।
সফর শেষে উভয় দেশই এটিকে সফল বলে বর্ণনা করেছে, যদিও কী কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে সে বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যুতে তার আলোচনা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, শি তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছেন। জবাবে তিনি শুধু শির বক্তব্য শুনেছেন, কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
তার ভাষায়, আমি তার কথা শুনেছি। আমি কোনো মন্তব্য করিনি। কোনো দিকেই প্রতিশ্রুতি দেইনি।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর পর শি বলেন, তাইওয়ান ইস্যুই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চীনের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, এটি ভুলভাবে সামাল দেওয়া হলে দুই দেশ সংঘর্ষের দিকেও যেতে পারে, যা পুরো চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় ঠেলে দেবে।
ট্রাম্প শুক্রবার জানান, তাইওয়ানের কাছে নতুন মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে তাইওয়ানকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে, যদিও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস তাইপের কাছে বড় আকারের নতুন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে, তবে এতে ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি ও শি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। উভয়েই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন বেইজিং তেহরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে যুদ্ধবিরতি আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে সহায়তা করে। তবে সফরকালে ট্রাম্প বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ব দেননি।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমি ইরান ইস্যুতে কোনো অনুগ্রহ চাইছি না।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই শুক্রবার (১৫ মে) বলেন, বেইজিং এখনও আলোচনার মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে।
তার ভাষায়, চীন যুদ্ধবিরতি বজায় রেখে দ্রুত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পক্ষে।
সফরে শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দলও ট্রাম্পের সঙ্গে ছিল। সফর শেষে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের জন্যই ‘দারুণ বাণিজ্য চুক্তি’ হয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২০০টি উড়োজাহাজ কিনতে সম্মত হয়েছে।
এছাড়া হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চীন শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল ও কৃষিপণ্য কিনতে পারে।
তবে এসব চুক্তির বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। চীনের পক্ষ থেকেও নতুন কোনো চুক্তির কথা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশ একটি বাণিজ্য কাউন্সিল ও একটি বিনিয়োগ কাউন্সিল গঠনে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি শুল্ক ও কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে গত বছরের অক্টোবরের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি- যেখানে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ ও বিরল খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের হুমকি দিয়েছিল- তা বাড়ানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুধু বলেন, আমরা শুল্ক নিয়ে আলোচনা করিনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক