ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও সামরিক পদে বড় রদবদল
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দপ্তর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও সামরিক পদগুলোতে একাধিক পরিবর্তন এনেছে। এর অংশ হিসেবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দীর্ঘদিনের প্রধান মোহসেন রেজাইকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) নতুন সচিব ও কাউন্সিলে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি করা হয়েছে।
রেজাই ১৬ বছর আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন এবং ইরাকের সঙ্গে ১৯৮০-এর দশকের যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ভূমিকা পালন করেন। খবর আল জাজিরার।
মনে করা হচ্ছে, এই নিয়োগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের অবস্থান নরম হওয়ার সম্ভাবনা কম। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সিনা আজোদি বলেন, রেজাইয়ের নিয়োগের উদ্দেশ্য হতে পারে আইআরজিসির অভ্যন্তরীণ সংহতি জোরদার করা, নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করা এবং সামরিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) আরও ছয়টি সামরিক পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়। আলী আবদোল্লাহিকে সশস্ত্র বাহিনীর নতুন চিফ অব স্টাফ করা হয়েছে। আলী ওজমাইকে আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রধান করা হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিকে আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার শুরুতে নিহত মোহাম্মদ পাকপুরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
রেজাই এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জুনে হওয়া সমঝোতার বিরোধিতা করেছিলেন। ওই সমঝোতার মাধ্যমে সাময়িকভাবে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সম্প্রতি রেজাই বলেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালিতে দ্বিতীয় কোনো নৌপথ খুলতে দেবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নীতি পরিবর্তন করতে হবে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সামরিক বাহিনী, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ নেতার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম নুরনিউজ রেজাইয়ের নিয়োগকে ইরানের যুদ্ধকালীন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ‘কৌশলগত পুনর্গঠন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এর লক্ষ্য সামরিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নীতির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেজাইয়ের আগে এসএনএসসি-এর সচিব ছিলেন মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর। তাকে সরিয়ে সর্বোচ্চ নেতা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে।
রেজাইয়ের নিয়োগের পর বিশ্লেষকদের মূল ধারণা হলো, তেহরান আলোচনায় গেলেও সামরিক ও নিরাপত্তা প্রশ্নে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পারে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধের প্রশ্নে ইরান বড় ধরনের ছাড় না দিয়ে নিজের কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে—এমন ইঙ্গিতই নতুন নিয়োগগুলো থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক