দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে। সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের ক্রুড অয়েলই দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আজ সোমবার (১৮ মে) বৈশ্বিক তেলবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ায় এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় তেলের দাম বাড়ছে। খবর রয়টার্সের।
ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ২ দশমিক ০৩ ডলার বা ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে একপর্যায়ে দাম ১১২ ডলারে উঠে যায়, যা ৫ মে’র পর সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ২ দশমিক ৩১ ডলার বা ২ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭৩ ডলারে লেনদেন হয়। একপর্যায়ে এটি ১০৮ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছে, যা ৩০ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। জুন মাসের ফ্রন্ট-মান্থ কন্ট্রাক্ট মঙ্গলবার (১৯ মে) মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
গত সপ্তাহেও উভয় বেঞ্চমার্ক তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। কারণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও আটক কার্যক্রম বন্ধে শান্তি চুক্তির আশা ক্ষীণ হয়ে পড়ে। ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আলোচনাতেও সংকট নিরসনে চীনের ভূমিকা নিয়ে কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি।
প্রেস্টিজ ইকোনমিকসের বিশ্লেষক জেসন শেনকার বলেন, ইরান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, তেলের দামে চাপ তত বাড়বে। এতে বৈশ্বিক সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।
ইউএই ও সৌদি আরবে ড্রোন হামলার ঘটনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
এমিরাতি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার উৎস তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ধরনের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রয়েছে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকের আকাশসীমা দিয়ে প্রবেশ করা তিনটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, এই ড্রোন হামলাগুলো একটি সতর্কবার্তা। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে ইরানে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।
এছাড়া রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু দেশের জন্য দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে, যা তেলের দাম বৃদ্ধিতে অতিরিক্ত চাপ যোগ করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক