তাইওয়ান ইস্যুতে চার দশকের প্রোটোকল ভাঙছেন ট্রাম্প!
চীনকে চটিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রোটোকল ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তাইওয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করতে পারলে তারা ‘খুশি’ হবে। খবর এএফপির।
স্থানীয় সময় বুধবার (২০ মে) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, আমি তার (লাই চিং-তে) সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি।
গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই দিনের এক হাই-ভোল্টেজ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ করে দেশে ফেরার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ দেখালেন ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প তাইওয়ান পরিস্থিতিকে চীনের সুরেই ‘তাইওয়ান সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আমাদের দারুণ বৈঠক হয়েছে। এখন আমরা তাইওয়ান সমস্যাটি নিয়ে কাজ করব।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে ওয়াশিংটন যখন তাইপেইয়ের বদলে বেইজিংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তারপর থেকে গত ৪৭ বছরে কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের মধ্যে সরাসরি কোনো ফোনালাপ বা যোগাযোগের নজির নেই। ট্রাম্প যদি লাই চিং-তের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তবে তা হবে ৪ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম কোনো ঘটনা। অবশ্য এর আগে ২০১৬ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প তৎকালীন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের অভিনন্দনসূচক ফোন কল রিসিভ করে বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করেছিলেন।
বেইজিং সফর শেষে ফেরার পথে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাইওয়ানের কাছে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে ‘দরাদরি করার কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
ট্রাম্পের এমন মিশ্র বার্তার পর তাইওয়ানের লাই চিং-তে প্রশাসন বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাইওয়ান প্রণালিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মূলত চীনই এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে পারলে আনন্দিত হবেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক