নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তরুণ পাইলটের মৃত্যু
বিয়ের আনন্দঘন মুহূর্ত নিমেষেই রূপ নিল এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে রাজকীয়ভাবে বিদায় নিতে হেলিকপ্টারে চড়েছিলেন নবদম্পতি। কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে বনের ভেতর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত বর ও হেলিকপ্টারের পাইলট নিহত হয়েছেন। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েক ঘণ্টা চাপা থাকার পরও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন কনে। খবর গালফ নিউজের।
গত ২৯ মে গভীর রাতে আটলান্টার উত্তরাঞ্চলীয় ডসনভিল এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত বরের নাম ডেভ ফিজি (২৬), যিনি মার্কিন বিমানসংস্থা ডেল্টা এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার পরিবার মূলত ভারতের কেরালার মুবাত্তুপুঝার বাসিন্দা।
আটলান্টা নিউজ ফার্স্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডসনভিলের ‘দ্য রিভেয়ার’ নামক ভেন্যুতে ডেভ ও জেসনির বিয়ের জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে আটলান্টার একটি হোটেলে যাওয়ার জন্য এই হেলিকপ্টার যাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। যা ছিল মূলত নবদম্পতির জন্য স্মরণীয় মধুচন্দ্রিমার বিশেষ পরিকল্পনা।
রাত ১১টার দিকে বর-কনে ‘রবিনসন আর৬৬’ মডেলের একটি হেলিকপ্টারে চড়ে বসেন। কিন্তু উড্ডয়নের পরপরই ভেন্যুর কাছাকাছি একটি ঘন জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয় যানটি। ঘটনাস্থলেই ডেভ ফিজি ও পাইলটের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর ২৫ বছর বয়সী কনে জেসনি মারাত্মক আহত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েক ঘণ্টা চাপা ছিলেন। দুর্ঘটনার অভিঘাতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেই কোনোমতে জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করেন। উদ্ধারকারীদের নিজের অবস্থান জানান। এরপর উদ্ধারকারী দল এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ডেভের বাবা জর্জ ফিজি জানান, জেসনি পেশায় একজন নার্স। জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন তার স্বামী তার ওপরই ঢলে পড়ে আছেন। তার শরীর নিথর ও ঠান্ডা হয়ে গেছে। রক্ত দেখে ও শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায় নার্স হিসেবে জেসনি তখনই বুঝতে পেরেছিলেন যে ডেভ আর বেঁচে নেই। তবে অলৌকিকভাবে জেসনির শরীরের কোনো হাড় ভাঙেনি, কেবল কিছু স্থানে কেটে গেছে ও আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
পেশাদার বাণিজ্যিক বিমানচালক হওয়ায় উড্ডয়নের আগেই আবহাওয়া ও কুয়াশা নিয়ে পাইলটকে সতর্ক করেছিলেন বর ডেভ ফিজি। ডেভের বাবা জানান, উড্ডয়নের আগে তার ছেলে পাইলটকে বলেছিলেন, এখানে ভিজিবিলিটি (দৃশ্যমানতা) শূন্যের কোঠায়। যখন এমন পরিস্থিতি থাকে, আমরা তখন কখনোই বিমান উড়াই না।
কিন্তু পাইলট জেসনিকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন যে তারা কিছুটা ওপর দিয়ে উড়ে চলে যাবেন। স্থানীয় সূত্রের প্রাথমিক ধারণা, ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় হেলিকপ্টারটি গাছের ডালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। মার্কিন জাতীয় পরিবহণ নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) ইতোমধ্যেই এই দুর্ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
ডেল্টা এয়ারলাইন্সের পাইলট ডেভ ফিজির এই অকাল মৃত্যুতে আটলান্টার মালয়ালি (কেরালা) সম্প্রদায়ের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ডেভের দাদা-দাদি প্রথম এই পরিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ডেভের বাবা-মা বেঙ্গালুরু থেকে ফার্মেসি পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এসে স্বাস্থ্য খাতে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়েন। অন্যদিকে কনে জেসনি কেরালার তিরুভাল্লার বাসিন্দা স্যাম ও শিলার মেয়ে।
ডেভের বাবা জর্জ ফিজি বলেন, ঈশ্বর আমাদের নিখুঁত বিয়ের আনন্দ দিয়েছিলেন, কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু ট্র্যাজেডিতে বদলে গেল। এখন ঈশ্বরের কাছেই আমরা এই শোক সহ্য করার শক্তি এবং শান্তি প্রার্থনা করছি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক