ইরানে দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাত আরও এক ধাপ তীব্র রূপ নিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইরানে দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর সিএনএনের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আজ ইরানের সামরিক নজরদারি সক্ষমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর উপর্যুপরি হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন মেরিন কর্পস, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকে ইরানের সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নির্ভুলভাবে আঘাতকারী ‘প্রিসিশন মিউনিশন’ বা দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। পেন্টাগনের দাবি, ইরানের এই সামরিক স্থাপনাগুলো ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই আক্রমণকে ইরানের অযাচিত ও ক্রমাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর অতিরিক্ত বা দ্বিতীয় দফার এই হামলা চালাবে।
মূলত গত সোমবার (৮ জুন) হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ‘অ্যাপাচি’ হেলিকপ্টারকে ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করে। এর জবাবে গতকাল বুধবার প্রথম দফায় দক্ষিণ ইরানে বিমান হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। তেহরানও আজ ভোরে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটি ও পারস্য উপসাগরের একাধিক মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
টানা দুই দিন ধরে ইরানের অভ্যন্তরে আমেরিকার এই ব্যাপক বিমান হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক