কম বয়সী তরুণীদের দিয়ে ইউক্রেনীয় সেনা হত্যার ছক রাশিয়ার
ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের বিষ খাইয়ে হত্যার জন্য রাশিয়া দেশটির কিশোরী ও তরুণীদের ভাড়া করছে বলে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে এক ইউক্রেনীয় সেনাকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য সামনে এসেছে। ইউক্রেনের পুলিশ প্রধান ইভান ভিহিভস্কি রুশ গোয়েন্দা বাহিনীর এই নতুন কৌশলের কথা ফাঁস করেছেন। খবর রয়টার্সের।
বুধবার (১০ জুন) ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম ‘সেন্সর ডট নেটে’ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পুলিশ প্রধান ভিহিভস্কি জানান, চলতি বছর মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রামের’ মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের এমন অন্তত ছয়টি ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে একটি সফলভাবে নস্যাৎ করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, “আমরা এখানে আগ্রাসী রাষ্ট্রের (রাশিয়া) বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা পরিকল্পিত ও ইউক্রেনেরই নাগরিকদের দ্বারা বাস্তবায়িত সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের কথা বলছি।”
ইউক্রেনীয় পুলিশ প্রধানের তথ্য অনুযায়ী, রুশ নিয়োগকারীরা বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে সহজ উপায়ে বড় অঙ্কের টাকা উপার্জনের লোভ দেখিয়ে কম বয়সী ইউক্রেনীয় মেয়েদের ফাঁদে ফেলছে। এরপর দূর থেকে অনলাইনের মাধ্যমেই তাদের পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপে এই তরুণীদের নির্দেশ দেওয়া হয় বিভিন্ন ডেটিং ওয়েবসাইটে গিয়ে ইউক্রেনীয় সেনা কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করতে। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর তাদের সঙ্গে গোপনে দেখা করার জন্য ওই তরুণীদের ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার টাকাও পাঠায় রুশ হ্যান্ডলাররা। সাক্ষাৎকারের সময় সেনাদের মদে বা পানীয়র সঙ্গে ‘মেথাডোন’ নামক একটি তীব্র সিন্থেটিক ওপিওড বা মাদক মিশিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো, যা অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে মানুষের মৃত্যু অনিবার্য।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জাইতোমির অঞ্চল থেকে এমনই এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরীকে আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে এক ইউক্রেনীয় সেনাকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, টেলিগ্রামের মাধ্যমে রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থার (এফএসবি) সম্ভাব্য এজেন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তার। এমনকি মেথাডোন সমৃদ্ধ একটি স্ফটিকজাতীয় পদার্থের পার্সেলও সে রাশিয়া থেকে সংগ্রহ করেছিল বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসবাদ বা নাশকতার মাধ্যমে নিজের দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবির কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মস্কোও এর আগে কিয়েভের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ভেতরে বোমা হামলার জন্য রুশ নাগরিকদের ব্যবহার করার পাল্টা অভিযোগ এনেছিল। তাছাড়া ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকজন শীর্ষ রুশ সেনা কর্মকর্তাকে গুপ্তহত্যার পেছনে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক