ট্রাম্পের নামের সঙ্গে মিল রেখে ইউক্রেনের ভূখণ্ড নামকরণের প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনায় জড়িত ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে ডনবাস অঞ্চলের একটি অংশের নাম পরিবর্তন করে ‘ডনিল্যান্ড’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। খবর কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টের।
প্রতিবেদনটিতে সূত্রের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, এই ধারণাটি অনেকটা রসিকতার ছলে উত্থাপিত হলেও এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনকে রাশিয়ার আঞ্চলিক দাবির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করা।
‘ডনিল্যান্ড’ শব্দটি মূলত দোনেৎস্ক, ডোনাল্ড এবং ডিজনিল্যান্ডের একটি সংমিশ্রণ। এটি প্রথম উত্থাপিত হওয়ার পর থেকে শান্তি আলোচনাগুলোতে মাঝেমধ্যেই সামনে আসছে। প্রস্তাবিত এই এলাকাটি দোনেৎস্ক ওব্লাস্টের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রায় দুই হাজার বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
পরিকল্পনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কম থাকলেও জানা গেছে, আলোচকরা প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্পের 'বোর্ড অফ পিস' (যাতে ইউক্রেন বা রাশিয়া অন্তর্ভুক্ত নয়) এই অঞ্চলটি শাসনে সহায়তা করতে পারে। ট্রাম্পের আত্মতুষ্টিকে কাজে লাগানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও, এই প্রস্তাবটি এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক নথিতে স্থান পায়নি বা কিয়েভের জন্য স্পষ্ট কোনো সুবিধাও বয়ে আনেনি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন মধ্যস্থতায় আয়োজিত আলোচনাগুলো ডনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল, যার মধ্যে আংশিক অধিকৃত দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অন্তর্ভুক্ত। আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণই বর্তমানে মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মস্কো কিয়েভকে এমন সব এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে যা রাশিয়া ২০১৪ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সামরিকভাবে পুরোপুরি দখল করতে পারেনি।
নিজের নির্বাচনি প্রচারণার সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি সমঝোতামূলক নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন। তাঁর প্রশাসন ইউক্রেনীয় এবং রুশ উভয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছে, যা কিয়েভের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। সেখানকার কিছু কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন এখন মিত্রের চেয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেই বেশি ভূমিকা পালন করছে।
২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর, মার্কিন প্রশাসন এমন একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে নমনীয়তা দেখায় যাতে ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক ওব্লাস্ট থেকে সরে আসতে হতে পারে। সমালোচকরা একে মস্কোর কাছে একটি বড় আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন। এরপর থেকে রাশিয়া তথাকথিত ‘অ্যাঙ্কোরেজ চুক্তি’র প্রচার চালাচ্ছে, যার অধীনে ডনবাসের নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হবে।
ইউক্রেন এখনো দোনেৎস্ক ওব্লাস্টের প্রায় এক-চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর রয়েছে। এছাড়া লুহানস্ক ওব্লাস্টেও তাদের কিছু অবস্থান রয়েছে। কিয়েভ তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং পরিবর্তে বৃহত্তর নিষ্পত্তির প্রথম ধাপ হিসেবে বিদ্যমান ফ্রন্ট লাইন বরাবর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত মার্চ মাসে বলেছিলেন, ‘আমি এটি পরিষ্কার করে দিতে চাই, আমি কখনোই ডনবাস এবং সেখানে বসবাসকারী ২ লাখ ইউক্রেনীয়কে ছেড়ে দেব না। আমি কেন তা করব? কারণ পুতিন একে শান্তির শর্ত হিসেবে চাপিয়ে দিচ্ছেন? এরপর কি তিনি আবার নতুন কোনো দাবি তুলবেন না?’
জেলেনস্কি আরও বলেছিলেন, ‘আমাদের সেরা রক্ষণাত্মক দুর্গগুলো এখানেই অবস্থিত। আমরা যদি আমাদের সৈন্য প্রত্যাহার করি, তবে রুশরা দেশের মধ্যাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়ে যাবে।’
'কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট'-এর তথ্য অনুযায়ী, ডনবাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাশিয়ার দাবির বিরোধিতা করেনি মার্কিন পক্ষ। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্টকে জানিয়েছেন, আঞ্চলিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি এখন পুরোপুরি কিয়েভ এবং মস্কোর ওপর নির্ভর করছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক