১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে মার্কিন ডলার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফিড) কর্তৃক সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম এক লাফে ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে গত এক বছরের মধ্যে ডলারের সর্বোচ্চ মাসিক মূল্যবৃদ্ধি হতে যাচ্ছে চলতি মাসে। ডলারের এই একচেটিয়া আধিপত্যের জেরে ইউরো, পাউন্ড, স্বর্ণ ও ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। খবর রয়টার্সের।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরোর বিপরীতে ডলার ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়, যার ফলে প্রতি ইউরোর মান ১.১৪ ডলারের নিচে নেমে গেছে। পাশাপাশি ব্রিটিশ পাউন্ড গত ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ও জাপানি ইয়েন গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে (প্রতি ডলার ১৬১.৭৯ ইয়েন) এসে ঠেকেছে।
শক্তিশালী ডলারের ধাক্কায় গত বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমে গত ৭ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স চার হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। এর পাশাপাশি জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দামেও বড় ধস নেমেছে। ২০২৪ সালের পর এই প্রথম বিটকয়েনের দাম ৬০ হাজার ডলারের নিচে নেমে গেছে।
বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান নির্ধারণকারী ‘ডলার ইনডেক্স’ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ১০১.৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা আগের দিন ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০১.৮ পয়েন্টে উঠেছিল।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যেখানে ব্যবসায়ীরা ধারণা করেছিলেন ফেডারেল রিজার্ভ এ বছর সুদের হার কমাতে পারে, এখন সেই হিসাব সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন ধারণা করছেন আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই সুদের হার অন্তত একবার বাড়ানো হতে পারে এবং বছরের শেষ নাগাদ দ্বিতীয়বার সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৫০ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি বজায় রাখায় ডলারের এই উর্ধমুখী ধারা। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের ‘কোর পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার’ বা ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় সংক্রান্ত তথ্যের অপেক্ষায় আছেন। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, মূল্যস্ফীতির এই হার ৩.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি।
ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের এই রেকর্ড পতনের কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণে জাপান সরকার যেকোনো সময় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে ধারণা করছেন টোকিওর মুদ্রা কৌশলবিদরা। সাধারণত প্রতি ডলারের মান ১৬২ ইয়েন বা তার বেশি হলে এই হস্তক্ষেপ আসতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক