খামেনির শোক অনুষ্ঠানে তিন ছেলে, আড়ালেই নতুন নেতা মোজতবা
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে তিন ছেলে প্রকাশ্যে এলেও জনসমক্ষে দেখা যায়নি তার চতুর্থ ছেলে তথা দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলী খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্য নিহত হন।
আজ রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে আয়োজিত দ্বিতীয় দিনের শোক অনুষ্ঠানে আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ পুত্র মোস্তফা এবং অপর দুই কনিষ্ঠ পুত্র মাসুদ ও মেয়সামকে একসঙ্গে দেখা গেছে। তারা তিনজনেই ধর্মীয় আলেম। তবে এই অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। খবর এএফপির।
সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, উক্ত বিমান হামলায় মোজতবা আহত হয়েছিলেন। তবে তার আঘাত কতটা গুরুতর তা এখনও স্পষ্ট নয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই যোগাযোগ রাখছেন। আগামী বৃহস্পতিবারের দাফন অনুষ্ঠানে তিনি প্রকাশ্যে আসেন কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।
আজ রোববার ৯৭ বছর বয়সী প্রবীণ আলেম গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি প্রয়াত খামেনির জানাজা পড়ান। আগামীকাল সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে একটি বিশাল শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার পবিত্র নগরী কোমে এবং বুধবার ইরাকে অনুরূপ শোকানুষ্ঠান শেষে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্ব ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে খামেনির নিজ জন্মভূমিতে দাফন সম্পন্ন হবে।
এদিকে তেহরানের এই বিশাল জমায়েতকে বর্তমান থিওক্র্যাটিক বা ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থার টিকে থাকার শক্তির মহড়া হিসেবে দেখছে দেশটির সরকার। গত জানুয়ারি মাসের তুমুল সরকারিবিরোধী আন্দোলন ও পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধ কাটিয়ে শীর্ষ নেতাদের হারানোর পরও শাসনব্যবস্থা যে অটুট রয়েছে, তা প্রমাণ করতেই এই গণজমায়েতের আয়োজন। তেহরানের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালেও রোববার সরকারি ছুটি থাকায় লাখ লাখ মানুষ মোসাল্লা কমপ্লেক্সে ভিড় করেন। কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, কেবল রাজধানীতেই প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ এই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আপাতত স্থগিত থাকলেও শোক মঞ্চ থেকে বারবার প্রতিশোধের স্লোগান উঠছে। জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ ইরানিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, খামেনির হত্যাকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। নেতারা যদি প্রতিশোধ না নিয়ে কেবল আলোচনায় বসেন, তবে দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।
শোকের এই আবহে তেহরানে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ থাকা বিপ্লবী গার্ডসের (আইআরজিসি) নতুন কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ভাহিদিকে রোববারের উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে দ্বিতীয়বারের মতো দেখা গেছে। একই সঙ্গে আইআরজিসির এলিট কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কায়ানিও জনসমক্ষে এসে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, আজীবন সংগ্রামের পর খামেনির এই ‘মহিমান্বিত অবসান’ বা শাহাদাত তার জন্য উপযুক্ত।
ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা তেহরানে এসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং খামেনির শোক অনুষ্ঠানে শরিক হয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক