আরব সাগরে ৫ ক্রুসহ পাকিস্তানের বিমান নিখোঁজ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচি যাওয়ার পথে আরব সাগরের ওপর রাডার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে করাচিভিত্তিক বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘কে-টু এয়ারওয়েজের’ বোয়িং ৭৩৭-৪০০ কার্গো বা মালবাহী বিমান। করাচি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে পাকিস্তানি আকাশসীমায় প্রবেশের মুহূর্তে বিমানটির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি নিশ্চিত করেছে যে নিখোঁজ হওয়ার সময় বিমানটিতে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। রাডারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দ্রুতগতিতে সাগরে আছড়ে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর ডনের।
নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৯টা ১৮ মিনিটে বিমানটির পাইলট প্রথম নেভিগেশনাল বা পথপ্রদর্শন সিস্টেমে বড় ধরণের ত্রুটির কথা করাচি এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টারে রিপোর্ট করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের গাইড বা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু এর মাত্র তিন মিনিট পর রাত ৯টা ২১ মিনিটে রাডারে দেখা যায় বিমানটি অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে নিচে নামছে এবং দিক পরিবর্তন করছে। এর পরপরই করাচি থেকে ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে বিমানটির রাডার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আরও পড়ুন : ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী-সন্তানসহ গাড়ি খাদে ফেলেও আইনি মুক্তি চিকিৎসকের
আরও পড়ুন : হামলার জবাবে ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের পাল্টা আঘাত
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সার্ভিস ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, বিমানটি প্রথমে উচ্চতা হারায়, এরপর আবার কিছুটা উপরে ওঠার চেষ্টা করে এবং দ্বিতীয়বারে অত্যন্ত নাটকীয় ও আকস্মিকভাবে খাড়া নিচের দিকে নামতে শুরু করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ হাজার ১০০ ফুট ওপরে থাকা অবস্থায় বিমানটি প্রতি মিনিটে মাইনাস ২২ হাজার ৪০০ ফুট খাড়া গতিতে নিচের দিকে নামছিল, যা মূলত বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে আছড়ে পড়ার দিকেই ইঙ্গিত করে।
আরও পড়ুন : ইরাকে পৌঁছাল খামেনির মরদেহ, জানাজায় জনসমুদ্র
আরও পড়ুন : চলন্ত বাইকে চিতাবাঘের আক্রমণ, সিসিটিভিতে হাড়হিম করা দৃশ্য
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সার্ভিসগুলো আরও জানিয়েছে, শারজাহ থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি ওই অঞ্চলের আরও কয়েকটি বিমানের মতোই গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম বা জিএনএসএস সিগন্যালে মারাত্মক জ্যামিং বা ইন্টারফেয়ারেন্সের শিকার হয়েছিল। ফলে তাদের নেভিগেশন ডেটা বিকল হয়ে পড়েছিল। ঘটনার পরপরই পাকিস্তানের রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার সক্রিয় করা হয়েছে। নিখোঁজ বিমান ও তার ক্রু সদস্যদের সন্ধানে সাগরে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। এই রহস্যজনক দুর্ঘটনার আসল কারণ অনুসন্ধানে গভীর তদন্ত শুরু করবে ব্যুরো অব এয়ার সেফটি ইনভেস্টিগেশন।
তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার শিকার হওয়া এপি-বিওআই রেজিস্ট্রেশন নম্বরের এই বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি ২০২৪ সালে কে-টু এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয়। বিমানটি মূলত ১৯৯৯ সালে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে রাশিয়ার অ্যারোফ্লটে প্রথম সেবা দেওয়া শুরু করে। পরে ২০০৪ সালে গারুদা ইন্দোনেশিয়ার বহরে যোগ দেয়। দীর্ঘ বছর যাত্রী পরিবহণের পর ২০১২ সালে বিমানটিকে কার্গো বা মালবাহী বিমানে রূপান্তর করা হয়। কে-টু এয়ারওয়েজে যোগ দেওয়ার আগে এটি টিএনটি এয়ারওয়েজ ও এএসএল এয়ারলাইন্স দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। বিমানটির পাঁচ ক্রুর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানতে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক