ট্রাম্পের ঘোষণায় উত্তপ্ত তেলের বাজার, স্বর্ণের দামে বড় পতন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও বড় পতন হয়েছে স্বর্ণের দামে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে, যা অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দামকে ৫ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক বাজারে মুদ্রাস্ফীতি এবং মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। খবর রয়টার্সের।
বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৩ দশমিক ৬৭ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত ২ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৪ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, গত জুন মাসে ইরানের সঙ্গে চার মাসের সংঘাতের অবসান ঘটাতে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা এখন ‘শেষ’। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনাতেও জড়াতে চান না বলে সাফ জানিয়ে দেন। ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের পরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
এদিকে এই ঘোষণার আগে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানায়, ইরানের ওপর মার্কিন হামলা এবং দেশটিকে তেল বিক্রির অনুমতি বাতিলের প্রতিবাদে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
সাধারণত যেকোনো বৈশ্বিক যুদ্ধ বা ভূ-রাজনৈতিক সংকটে স্বর্ণকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ (সেফ হ্যাভেন) হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এবারের চিত্র ভিন্ন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতি এবং উচ্চ সুদের হারের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আর উচ্চ সুদের হারের এই প্রবণতা স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
বাজার বিশ্লেষক ও ইউবিএস-এর বিশেষজ্ঞ জিওভানি স্টাউনোভো এই পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, স্বল্প মেয়াদে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল থাকার বা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বর্ণের দাম আবার ঘুরে দাঁড়াতে হলে মার্কিন কর্মসংস্থানের আরও দুর্বল তথ্য এবং মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির হার কমা প্রয়োজন, যা ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) কর্মকর্তাদের সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজার বর্তমানে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির ৬৬ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছে, যা গত মঙ্গলবার ছিল ৬২ শতাংশ। সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ কেমন হবে, তা জানতে এখন বিনিয়োগকারীদের কড়া নজর রয়েছে আজ রাতে প্রকাশিতব্য ফেডের সভার কার্যবিবরণীর দিকে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও আজ বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ববাজারে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৯১ দশমিক ৮৮ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ২২৭ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক