বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে, যা নতুন করে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চ সুদের হারের শঙ্কাকে উসকে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই মূল্যবান ধাতুটি এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি নেমে এসেছে। খবর রয়টার্সের।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক লেনদেনের জন্য স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৮.৭৭ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে গতকাল বুধবার একদিনেই স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৫৮ ডলার কমে যায়। এটি ছিল গত ১ জুলাইয়ের পর থেকে সর্বনিম্ন দর। একইভাবে, মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার বা আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে এই ধাতুর দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৭.৬০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওএন্ডএর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং জানান, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ আগামী ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের শুরুতেই দ্বিতীয় দফায় সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন একটি শক্ত বার্তা বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলে দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা। সাধারণত উচ্চ সুদের হার থাকলে কোনো নিয়মিত লভ্যাংশ বা সুদ না দেওয়া স্বর্ণের মতো সম্পদের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক চাপ তৈরি হয়, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বাজার থেকে পুঁজি তুলে বন্ড বা ব্যাংকের দিকে ঝুঁকছেন।
শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুসারে, বাজারের ৬৮ শতাংশ বিনিয়োগকারী ধারণা করছেন আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই সুদের হার বাড়ানো হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে তা আরও এক দফা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ৮৭ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কড়া মুদ্রানীতির কারণে ব্যাংক অব আমেরিকা ইতোমধ্যেই ২০২৬ সালের জন্য স্বর্ণের গড় পূর্বাভাসের দাম ১৪ শতাংশ কমিয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬০ ডলারে নামিয়ে এনেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও এই পতনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্ববাজারে আজ রুপার (স্পট সিলভার) দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭.৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এর বিপরীতে প্লাটিনামের দাম ১.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৯৫.৫১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১, হাজার ২২৪.১২ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক