মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একাধিক বিবৃতিতে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইআরজিসির দাবি, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও মার্কিন নির্মিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির একটি কৌশলগত এফপিএস রাডার সিস্টেম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
একই সঙ্গে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে হামলারও দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ সামুদ্রিক নজরদারি বিমান রাখা হ্যাঙ্গার এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর ড্রোন কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে একাধিক জ্বালানি ডিপো এবং গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে আইআরজিসি।
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব হামলা তাদের ‘চোখের বদলে চোখ’ নামে পরিচালিত প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজের গতিপথ বন্ধ করার অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। তাদের অভিযোগ, জাহাজ দুটি ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখে অবৈধভাবে চলাচল করছিল এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল।
এছাড়া আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ ইরান আর মেনে নেবে না। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনও চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী ধাপের ফলাফল পরবর্তী বিবৃতিতে প্রকাশ করা হবে।
তবে কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের এসব দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক