দক্ষিণ লেবাননে পরীক্ষামূলকভাবে তিন গ্রামের নিরাপত্তার দায়িত্বে সেনাবাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের তিনটি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে লেবাননের সেনাবাহিনী। এর মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং ওই এলাকাগুলোর নিরাপত্তা লেবাননের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ফ্রাউন, স্রিফা এবং জাওতার আল-গারবিয়া এই তিনটি গ্রামে প্রথমবারের মতো চুক্তির বাস্তবায়ন পরীক্ষা করা হবে। খবর আল জাজিরার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের দখল করা এলাকা থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করবে। এরপর লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো অপসারণের তদারকি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, গত সপ্তাহে রোমে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ফল হিসেবেই এই অগ্রগতি এসেছে। চুক্তির সফল বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন দুই পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলও নিশ্চিত করেছে যে পাইলট কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ছয় দফা বৈঠকের পর লেবানন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই কাঠামোগত চুক্তিতে সম্মত হয়। তবে চুক্তির পরও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট ইসরায়েলকে কোনো শর্ত ছাড়াই লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে যেতে হবে।
তবে চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সূচি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। আল জাজিরাকে এক লেবাননি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, জাওতার আল-গারবিয়া শহরের উপকণ্ঠ থেকে ইসরায়েলি সেনা এখনও সরে না যাওয়ায় সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়নি।
অন্যদিকে ফ্রাউন ও স্রিফার স্থানীয় কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে এখনও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং পরিস্থিতি আগের মতোই রয়েছে।
চুক্তিতে ইসরায়েল কখন পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তারা লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ ধরে রাখবেন।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, পাইলট জোনগুলো থেকে ইসরায়েলি সেনা আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রত্যাহার শুরু করতে পারে।
উল্লেখ্য, গত মার্চে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা শুরু করলে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৪ হাজার ৩২৮ জন নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে ৩২ জন ইসরায়েলি সেনা ও ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক