শাড়ি না আনায় মারধরের পর শ্বাসরোধে স্বামীকে হত্যা করল স্ত্রী
পছন্দের শাড়ি না আনায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে প্রেশার কুকারের ঢাকনা দিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতের মহারাষ্ট্রের বদলাপুর পূর্ব এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত নারীর নাম সুনিতাদেবী হরেরাম সিং, যিনি মূলত বিহারের রোহতাস জেলার বাসিন্দা।
আজ বুধবার (২২ জুলাই) পুলিশ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গতকাল মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথমে তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুলাই বদলাপুর পূর্বের বাড়িতে নিহত হরেরাম কিষুঞ্জি সিং (৩৫) ও তার স্ত্রী সুনিতাদেবীর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। স্বামী শাড়ি আনতে ব্যর্থ হওয়ায় সুনিতাদেবী ক্ষিপ্ত হয়ে প্রেশার কুকারের ঢাকনা দিয়ে হরেরামের মাথায় ও শরীরে আঘাত করেন এবং পরে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর সুনিতাদেবীর দেওয়া জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে পুলিশ প্রথমে একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারি হাসপাতালের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর ঘটনার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়।
বদলাপুর পূর্ব থানার সিনিয়র ইন্সপেক্টর নিতিন পাটিল জানান, মেডিকেল রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে- হরেরামের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না, বরং শ্বাসরোধের ফলে দমবন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এই রিপোর্টের পর পুলিশ নিহতের পরিবারের সদস্য ও বাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্ত্রীর ওপর জোরালো সন্দেহ তৈরি হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে সুনিতাদেবী নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় একটি আদালতে হাজির করা হলে আদালত সুনিতাদেবীকে আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক