ভারতের ককরোচ আন্দোলন নিয়ে মন্তব্যে অনীহা পাকিস্তানের
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর চলমান আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ বলেছে, বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই এ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবিকে প্রশ্ন করা হয়, ভারতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল কি না।
জবাবে তিনি বলেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ ধরনের বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করি না। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
এদিকে নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির আন্দোলন টানা ৩৪তম দিনে গড়িয়েছে।
দিল্লির জন্তর মন্তরে হাজারো সমর্থক বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। গত ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির পর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। ওই কর্মসূচির সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় এবং লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
চলমান পরিস্থিতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার ঘোষণা দেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারের এই ঘোষণাকে যথেষ্ট নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সিজেপি। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন বন্ধ হবে না।
এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, সরকার এখন পর্যন্ত চারবার সিজেপির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।
জিতেন্দ্র সিং বলেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার বাসভবন কিংবা দপ্তর—যেখানেই হোক, আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। সংলাপের মাধ্যমেই সমাধানের পথে এগোতে চাই।
তবে সিজেপি সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, সরকারি বাসভবন বা দপ্তরে নয়, নিরপেক্ষ স্থানে অথবা জন্তর মন্তরেই আলোচনা হতে হবে।
সংগঠনটির মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, তারা সরকারকে জন্তর মন্তরে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
অন্যদিকে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, আলোচনার জন্য কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ার মতো একটি নিরপেক্ষ স্থান গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা কোনো মন্ত্রী বা কর্মকর্তার বাসভবন কিংবা দপ্তরে যাব না। জনগণের আন্দোলন যেখানে চলছে, আলোচনাও সেখানেই হওয়া উচিত।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক