যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্কের জবাবে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ কানাডার
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে টানা কয়েক দিনের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একই পরিমাণের প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। খবর আল জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। ফলে অ্যালকোহল, দুগ্ধজাত পণ্য, প্রযুক্তি সরঞ্জাম, হকি খেলার সামগ্রী, কাঠ ও উপহার সামগ্রীসহ প্রায় ৫০০টিরও বেশি ক্যাটাগরির কানাডার পণ্যে এই ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রস্তাবিত নতুন শর্তগুলো অন্যায্য ও দেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করার সামিল ছিল বলেই তারা চুক্তি থেকে সরে এসেছেন।
মার্কিন শুল্কের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও শ্রমিকদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইস্পাত, কৃষি যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন মার্কিন পণ্যে ‘প্রতি ডলারে ডলার’ হিসাব ধরে সমপরিমাণ (৫০ শতাংশ) পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অটোয়া।
অন্যদিকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, শেষ মুহূর্তে কানাডা নতুন দাবি তুলে ধরে পূর্ব প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসায় বাণিজ্যিক সমঝোতা নস্যাৎ হয়েছে। এই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও কানাডার মধ্যে বাকবিতণ্ডা নতুন আকার ধারণ করল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক যুদ্ধের ফলে উভয় দেশের অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে কানাডার বহু পণ্য মার্কিন বাজার থেকে ছিটকে পড়বে এবং বহু ছোট-মাঝারি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও ভোক্তা পর্যায়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে কানাডা এখন এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে নিজেদের বাণিজ্য প্রসারের চেষ্টা করছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক