পাকিস্তানের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি মানতে হবে ভারতকে : আন্তর্জাতিক আদালত
পাকিস্তানের সঙ্গে বিতর্কিত সিন্ধু পানি চুক্তি মেনে চলতে এবং কাশ্মীর অঞ্চলে চিকিৎসাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ সীমিত রাখতে ভারতকে নির্দেশ দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিশি আদালত (পিসিএ)। খবর রয়টার্সের।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩১ আগস্ট) এক রায়ে আদালত জানায়, ভারত একতরফাভাবে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করতে পারে না। তাই সিন্ধু পানি চুক্তি এখনও পূর্ণভাবে কার্যকর রয়েছে। ভারতকে চুক্তি অনুযায়ী বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরের এক পর্যটন কেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর এই হামলার পেছনে পাকিস্তানি দুই নাগরিকের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ঐতিহাসিক পানি চুক্তিটি স্থগিত (ইন অ্যাবেয়েন্স) করে ভারত। তবে পাকিস্তান এই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে।
পরবর্তী সময়ে ভারত কাশ্মীরের পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু করলে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়। তিনবার যুদ্ধ এবং একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরও ১৯৬০ সাল থেকে উভয় দেশই এই চুক্তি মেনে আসছিল। ফলে ভারতের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক চুক্তির বাইরে গিয়ে একক সিদ্ধান্ত বলে গণ্য করে ইসলামাবাদ।
স্থায়ী সালিশি আদালত তাদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে জানায়, চুক্তির কোনো ধারায় কোনো একক দেশের পক্ষে চুক্তি স্থগিত বা শেষ করার এখতিয়ার রাখা হয়নি। তাই ভারতকে অবিলম্বে পশ্চিমের নদীগুলোতে নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা ও কার্যক্রম সংক্রান্ত শর্তাবলি মেনে চলতে হবে।
তবে হেগের সালিশি আদালতের এই রায় তাৎক্ষণিকভাবে একতরফা ও সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লি জানায়, এই তথাকথিত সালিশি আদালতের ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার বা একচ্ছত্র অধিকার নেই। ফলে আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভারতের চলমান বা ভবিষ্যৎ কোনো প্রকল্পের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
সংঘটনটির ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে বিশ্বব্যাংক নিযুক্ত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যে নিশ্চিত করবেন যে হিমালয় অঞ্চলের এসব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চুক্তির শর্ত মেনে তৈরি হচ্ছে কি না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্তের পর অন্তত ৯০ দিন পর্যন্ত ভারতের রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ড্যাম বা বাঁধ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপরের নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক