দিল্লিতে ভবন ধসে নিহত বেড়ে ৩, ধ্বংসস্তূপ থেকে বাঁচানোর আকুতি শিক্ষার্থীদের
ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ছয়তলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক শিক্ষার্থী আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভবনটি দিল্লির আর কে পুরম সংলগ্ন সত্য নিকেতন এলাকায় অবস্থিত, যা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিইউ) সাউথ ক্যাম্পাসের খুব কাছে। ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের ভবনটি পুরুষদের ‘পেয়িং গেস্ট’ বা বেসরকারি ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। হোস্টেলটিতে ৭৫টি বেড ছিল। ভবনটির বয়স প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর। ঘটনার সময় ভবনের বেসমেন্টে মেরামতের কাজ চলছিল। আজ রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীই নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুর্ঘটনাকালে ভেতরে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। ধসে পড়া স্ল্যাবের নিচ থেকে শিক্ষার্থীদের বাঁচানোর আকুল চিৎকার শোনা গেছে।
উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ), দিল্লি পুলিশ এবং বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ) একযোগে অভিযান চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে এক্সেভেটর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা খালি হাতেই উদ্ধারকাজ শুরু করেন। জায়গাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় ভিড় সামলাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পাশের ভবনটি খালি করে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দিল্লির সত্য নিকেতনে ভবন ধসের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) সামাজিক মাধ্যম এক্সে এ বার্তা প্রকাশ করে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর তারানজিৎ সিং সান্ধু উদ্ধারকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনিল শর্মা জানান, ভেতর থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ফোন করে উদ্ধারের আকুতি জানাচ্ছেন।
এদিকে, এই ঘটনার পর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ। তিনি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লির (এমসিডি) প্রকৌশলী বদলি ও দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরে বলেন, দক্ষিণ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের আবাসনে এই দুর্ঘটনা দুর্নীতিরই ফল। অডিট বা তদন্তের নামে কোটি কোটি রুপি লুট হবে, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।
ভবনটির মালিক গুরুগ্রামের বাসিন্দা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাকি শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে আনতে কাজ করে যাচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক