ইসরায়েলি হামলা হলে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটবে : ইরান
ইসরায়েলের নির্বাচন যখন ভোট গণনা চলছে ঠিক সেই মুহূর্তে ইসরায়েলিদের নতুন কোনো হামলার জবাবে বিশ্ববাজারে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। খবর এএফপির।
ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার অঙ্গীকারকারী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আমলে কয়েক দশকের বৈরিতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেশ দুটি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালানোর মার্কিন ও ইসরায়েলি হুমকির মুখে মঙ্গলবারের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ইসরায়েলিদের নেতানিয়াহুর ডানপন্থি সরকারের প্রতি তাদের রায় দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
মস্কোয় অনুষ্ঠিত 'গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরাম' (জিইসিএফ) সম্মেলনের সাম্প্রতিক আলোচনার কথা উল্লেখ করে সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ এক পোস্টে আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েলের উসকে দেওয়া যেকোনো সামরিক দুঃসাহসিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ধ্বংসাত্মক প্রভাব গ্যাস সরবরাহকারী ও ভোক্তা উভয় পক্ষের জন্যই এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে প্রণালি দিয়ে প্রবাহিত হতো, সেই হরমুজ প্রণালিতে ইরান অবরোধ সৃষ্টি করায় এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
ইরান প্রণালিটিতে চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে এবং অনুমোদন ছাড়া পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছ।
এর পাল্টা জবাবে, ইরানের অর্থনীতিকে সংকটে ফেলার উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সমুদ্রবন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ বহাল রেখেছে।
বুধবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘স্বল্পমেয়াদী ও তীব্র সামরিক অভিযান’ পরিচালনা করার বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশকে জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে বিষয়টির সাথে পরিচিত সূত্রের বরাতে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
'অস্তিত্বের জন্য হুমকি'
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে জোট সরকার গঠনে তৎপর নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের কারণে তৈরি হওয়া ‘অস্তিত্বের হুমকি’ চিরতরে নির্মূল করার একটি বড় সুযোগ ইসরায়েলের সামনে রয়েছে।
অন্যদিকে, তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তথা সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তাদের নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের বদলে দেশের স্বার্থে কাজ করা উচিত।
আইজেনকোট বলেন, ‘নেতানিয়াহু, আপনার রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে ব্যবহার করার দুঃসাহসিকতা দেখাবেন না।’
গত রোববার ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এক প্রতিবেদনে জানায়, নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের মধ্যে এক সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, ওই ‘অনির্দিষ্ট পদক্ষেপটি’ বাস্তবায়িত হলে ইরানের সাথে পুনরায় নতুন করে লড়াই শুরু হয়ে যেত।
নেতানিয়াহু অবশ্য এই প্রতিবেদনটি অস্বীকার করেছেন।
আজ বুধবার নির্বাচন পরবর্তী ভোট গণনায় নেতানিয়াহুর জোট এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সুস্পষ্ট কোনো জয়ী পক্ষ সামনে আসেনি।
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নির্বাচনের ফলাফলে তাদের ‘কিছুই আসে যায় না।’
রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলেও তা ইরানের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না।
আরাঘচি বলেন, ‘তারা ইতোমধ্যে দুইবার এই চেষ্টা করেছে এবং এর পরিণাম দেখেছে। তারা যদি আবার চেষ্টা করতে চায়, তবে তারা ভালো করেই জানে যে অতীতের চেয়ে ভিন্ন কোনো ফলাফল তারা পাবে না।’
এদিকে, যেকোনো নতুন হামলার বিরুদ্ধে আরও বড় পরিসরে বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, ইরান ডেটা সেন্টার এবং অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত অবকাঠামোসহ মার্কিন স্বার্থভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে পারে।
তেহরান নেতানিয়াহুর ইরান সরকারের পতনের হুমকিকে ‘ফাঁকা আওয়াজ’ এবং ‘হতাশার প্রতীক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক