কয়েক ঘণ্টা পরই ভোট, ট্রাম্প কি পারবেন সিনেট ও কংগ্রেস দখলে রাখতে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ভোটগ্রহণ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এই নির্বাচনে কেবল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণই নির্ধারিত হবে না, বরং ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরের ভবিষ্যৎ ও তার নীতিগুলোর ওপর মার্কিন জনগণের ‘গণরায়’ ঘোষিত হতে যাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ‘রয়টার্স/ইপসোস’ জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সূচক ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩২ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ট্রাম্পের বর্তমান ভূমিকা ও হোয়াইট হাউসের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এক সপ্তাহ আগে এই সমর্থন ছিল ৩২ শতাংশ। তবে দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সূচক সর্বকালের সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল।
জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের এক বিশাল অংশ এই মধ্যবর্তী নির্বাচনকে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তাদের বিরোধিতা প্রকাশের প্রধান সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। নিবন্ধিত স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) ভোটারদের ৫০ শতাংশই স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের ভোট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিবাদ। বিপরীতে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেবেন মাত্র ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার। ৩৩ শতাংশ জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলছেন না।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও ট্রাম্পের ইরান নীতি
ভোটের লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে দেশে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও আকাশচুম্বী জ্বালানি তেলের দাম। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ ও হামলা শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে।
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে ৭৮ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়ই এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়। অর্থনৈতিক এই সংকটে ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন সাধারণ ভোটাররা। অর্থনৈতিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকট সামলাতে ডেমোক্র্যাটরা ভালো করবে বলে মনে করেন ৪৩ শতাংশ ভোটার, যেখানে রিপাবলিকানদের সমর্থন মাত্র ৩২ শতাংশ।
সাধারণ ব্যালট প্রশ্ন ও ভোটারদের উৎসাহ
সারা দেশের ভোটাররা কংগ্রেসে কোন দলের প্রতিনিধিত্ব দেখতে চান, সেই সার্বিক চিত্র তুলে ধরে ‘জেনেরিক ব্যালট’ প্রশ্ন। সর্বশেষ জাতীয় জরিপে রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটরা ৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। এতে দেখা গেছে, ৪৬ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাট পার্টিকে এবং ৩৮ শতাংশ ভোটার রিপাবলিকান পার্টিকে পছন্দের শীর্ষে রেখেছেন। তবে এক সপ্তাহ আগের জরিপের তুলনায় এই ব্যবধান কিছুটা কমেছে, যখন ডেমোক্র্যাটদের লিড ছিল ১১ শতাংশ পয়েন্ট।
নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্র্যাটিক শিবিরের ভোটারদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে, যা ভোটকেন্দ্রে বড় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক ভোটারদের ৪৯ শতাংশ জানিয়েছেন তারা এই নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে ‘অত্যন্ত উৎসাহিত’, যেখানে রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে এই উৎসাহের হার মাত্র ৩৩ শতাংশ।
কংগ্রেসে আসন ও ক্ষমতার লড়াই
যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এবার ব্যালট পেপারে সরাসরি থাকছে না, তবুও এই নির্বাচনের পুরো ছায়ায় ছড়িয়ে রয়েছে তার নাম। বর্তমানে রিপাবলিকানরা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) এবং সেনেট— উভয় চেম্বারেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখার লড়াইয়ে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি পুনর্দখল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগ রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে। তবে ১০০ আসনের মার্কিন সেনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জন্য পথটি কিছুটা কঠিন, বিশেষ করে আলাস্কা এবং মিশিগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে সাম্প্রতিক দিনে কঠোর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
উল্লেখ্য, ১ হাজার ৭৬৫ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারের ওপর অনলাইনে পরিচালিত এই রয়টার্স/ইপসোস জরিপে ২ শতাংশ পয়েন্টের মার্জিন অব এরর বা সম্ভাব্য ত্রুটির মাত্রা ধরা হয়েছে। সারা দেশের এই জরিপ ভোটারদের সামগ্রিক মনস্তত্ত্বের প্রতিফলন ঘটালেও অঙ্গরাজ্য বা নির্দিষ্ট ডিস্ট্রিক্ট পর্যায়ের আসনভিত্তিক সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশ এতে সম্পূর্ণ ধরা নাও পড়তে পারে, যার ওপর চূড়ান্তভাবে মার্কিন সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক