প্রয়াণ দিবসে রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করল আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ
রবীন্দ্রপ্রয়াণ দিবসে তাঁর স্বদেশ ভাবনা নিয়ে আলোচনা, রচনা থেকে পাঠ ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ। রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত মিলনায়তনে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় ‘স্বদেশ ভাবনায় রবীন্দ্রনাথ’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজহারুল হক আজাদের স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বদেশ ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইকবাল খোরশেদ।
এরপর নুৎফা বিনতে রব্বানীর সঞ্চালনায় শুরু হয় দলীয় ও একক আবৃত্তি। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে শিশু-কিশোর আবৃত্তি সংগঠন ‘শিলালিপি’, ‘শিল্পবৃত্ত’, ‘হৃদয়বৃত্তি’, ও ‘গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচিকাঁচার মেলা’। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন এনামুল হক বাবু, সুপ্রভা সেবতী, শামস মিঠু, নাসিমা খানম বকুল, রাশেদ হাসান ও হাসিব বিল্লাহ। এছাড়া দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে মুক্তধারা সংস্কৃতি চৰ্চা কেন্দ্র, কিংবদন্তী আবৃত্তি পরিষদ, মুক্তবাক, সাম্প্রতিক ঢাকা ও চারুকণ্ঠ আবৃত্তি সংসদ।
দলীয় পরিবেশনায় ‘হৃদয়বৃত্তি’ পরিবেশন করে জাইলস কর্ণেলিয়াসের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘আমি তোমায় ছাড়ব না মা!’। মুক্তধারা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র পরিবেশন করে মাহমুদা আখতারের নির্দেশনায় ‘এবার ফিরাও মোরে’।
কিংবদন্তী আবৃত্তি পরিষদ পরিবেশন করে সুবর্ণা আরফিনের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘আমরা মিলেছি আজ মায়ের ডাকে’। ফয়জুল্লাহ সাঈদের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘শিল্পবৃত্ত’ উপস্থাপন করে ‘স্বদেশ ভাবনায় রবীন্দ্রনাথ’। ইকবাল খোরশেদ জাফরের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘মুক্তবাক’ পরিবেশন করে ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’। মু. সিদ্দিকুর রহমান পারভেজের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘শিলালিপি’ পরিবেশন করে ‘সবাই বড় হইলে তবে স্বদেশ বড় হবে’। আমিরুল বাসার বাবুর গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘সাম্প্রতিক ঢাকা’ পরিবেশন করে ‘পায়ে চলার পথ’। নুসরাত ইয়াসমিন রুম্পার গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় গেন্ডারিয়া কিশলয় কচিকাঁচার মেলা পরিবেশন করে ‘ইচ্ছামতী নদী’। সবশেষে চারুকণ্ঠ আবৃত্তি সংসদ পরিবেশন করে জি. এম. মোর্শেদের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘জয় হোক মানুষের’।
কলকাতার বিখ্যাত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, গল্পকার, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সংগীতস্রষ্টা, চিত্রকর, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির এমন কোন শাখা নেই যেখানে তার বিচরণ ছিল না। বাংলা ভাষার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয় তাঁকে। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থের সংখা ৫২টি। তার ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৯৫টি ছোটগল্প, ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন যার অধিকাংশ তার জীবদ্দশায় এবং কিছু তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা ১৯১৫। তার সবগুলো ছোটগল্প ও গান গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতানে অন্তর্ভুক্ত। কবির মৃত্যু ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)।

নিজস্ব প্রতিবেদক